ভাবিনি, এ জীবনে নিজেকে জানতে গিয়ে সম্মুখীন হতে হবে তোমার আঁধারের । এ অন্ধকার সম্পৃক্ত করেছে আমায় । দেয়ালে দেয়াল তুলে আমি চলে গেছি দূরে , আরো দূরে । এখান থেকেই তোমাকে প্রতি মুহূর্ত চাওয়া, মাটি মেপে ফিরে আসবার যুদ্ধ ।
এ পাতাল আমারি রচনা, এ চন্দ্রগ্রহণ আমারি মোহান্ধকার
। তোমার নিষ্ঠুরতা নিবিড় করেছে আমায়, তারপরে আমিই
হয়েছি ভয়াল । নিরাকার আমিই, আমিই সাজিয়াছি দ্রোহকাল ।
জেনো আমায়, আমার শোকসন্তপে, মারণ তন্ত্রে আমাকেই দিও অভিশাপ । সে পাথেয় আমার, এ পথেই গঙ্গাবতরণ, এ শহর আমার তীর্থভূমি, এ নগর আমার অধিকার, আমি সন্ন্যাসী পরিব্রাজক ।
শায়িল নয়ান, নিমীলিত অঁখি, সহজ সঙ্গমে
ধীর পায়ে তুমি, শয়ন মন্দিরে, আসিলে গহীন
অঙ্গনে
অতি ধীরে তুমি, কহিলে আমায়, রাখিও চিরাকাশে ,
রাখিও অন্তরায়
, মরণ কবিতায় ,
আমারি আর্তি
, তুমি কেন নাই
কেন আসো নাই,
আমার শয়ন ঘরে ?
আমি কহি সখী
আঁখিপল্লব
তোর
সে অতি ঘোর
তুহুঁতে হারাই
,
হারিয়ে হারিয়ে
,
মরণ দিশায়, শানিয়া রাগিণী,
সাঁঝ সকাশে
তব বিরহ
অনিত্য মোহ, যায় ডুবে ডুবে
অতল নাভী, গভর আলিঙ্গনে ।
তুমি কহ মোরে,
তরণী শায়িত, ভাসিয়া যাইও, অন্ত রঙ্গমে
।
শীতলী অধর,
সুতীব্র
নাভি,
অথই
নীভি,
এ
বন্ধনে ।
আসিও রাতে, কেহ কোথা নাই,
এ আকাশ ভারী ,
সতী সাধ্বী
আমি,
শুধু
তোমাকেই চাই,
এ আশা করি ।
আমি কহি সখী, এ অধর তোর,
কাটিয়া হৃদয়, রেখাপাত করি
এ আকাশ ভারী
।
কিভাবে আসিব, আমি যে মৃত
গত কাল রাতে, সর্প দংশনে
।
কিভাবে বলিব, আমি যে বিরহ
আমারে চাহিয়া
, একান্তে সাধিয়া
হারিবে হৃদয়
, একাকী মলিন নয়নে ?
তুমি হাসি কহ, সখা,
কেন বা ভুলাও
, কেন না কহ ,
এ মৃত্যু পুরী
এ স্থানে মোরা, মায়ায় হারাই
রইয়া রইয়া, সইয়া সইয়া, তোমারি পথ
চাই
প্রতীক্ষা
প্রহর,
এ
সুপ্তি
শহর, এ শহরে তুমি
আসিছ আমায়, আমি যে তোমায়, হৃদয় মন্দিরে
।
এ অমৃতপুরী, ইহা পরে শুধু, তোমায় শুধাই
আঁকিয়া আঁখি, প্রিয়তম তুমি,
প্রলাপে ,
বিকারে
আঁখি নদী এই, চিরকাল তব,
তোমা হেথা
যাই ,
অন্ত অঙ্কনে
।
Canto 1: Scene 11

No comments:
Post a Comment