Showing posts with label ইরা. Show all posts
Showing posts with label ইরা. Show all posts

Sunday, 17 March 2024

১৫. নিশান্তরী

প্রেমের পুণ্যশ্লোক একদিন তোমার মনে হয়েছিল একান্তই অবান্তর ।

এ সব কথা বিকেলের টেলিভিশনে তাত্ত্বিক আলোচনার জন্য তোলা থাক । পয়সা ফেললেই 

ভালবাসার তামাশা দেখা যায়, কোথায় বিক্রি হয় মন, কে দেয় দাম, কারই বা আছে কেনবার দায় !  

সব প্রেম হয়ত পরিণতি পাবে না, শোয়ার আগে প্রসাধন তুলে ফেলার মত তুমি একদিন সব বিদ্বেষ  

ভুলে যাবে। তোমার শুধু মনে থাকবে নদীর পারে সেই গাছ ,যার সবুজ পসরায় তুমি এমনিই বসেছিলে 

কিছুক্ষণ । নীল শাড়িতে সেজে ওঠা সেই মেয়েটা , পৌষ মেলা থেকে সে কিনেছিল বাউল পুতুল , 

তুমি ওর দেখাদেখি মাটিতে এসে বসেছিলে । দূরে কেউ গাইছিল, মানব জমিন নিয়ে 

একটা গান , যা তোমায় অল্প ভারাক্রান্ত করে তোলে । ইরা একদিন এই গানটা নীল গীটারে গেয়েছিল ।

আমি শুধু, খুব কাছ থেকে দেখব তোমায়, এই সহজতায়, শব্দ সাজাতে থাকি । তোমায় উপহার দিই 

নিশ্চয়তা, শৈল্পিক অভিমান, যাতে তুমি নিজের মত দাম মেটাতে পারো । তোমার কোন ঋণ আমি 

রাখিনা , না রাখি কোন অনাবশ্যক পরিচয় যা তোমায় অল্প ভারাক্রান্ত করে তোলে ।


অন্তহীন দ্বেষ পেরিয়েও তুমি একইরকম নির্বিকার

এরকমই হওয়ার ছিল, আমায় অনায়াসে  বলেছ তুমি

চলে যাওয়ার কোনও বিশেষ  মুহূর্ত  হয় না ।

 

যে কোনও লহমায় সহজে ফিরে আসা যায় ,

অনামিকায় ধারণ করি স্মৃতিবিজড়িত হলুদ পাথর ।

এ স্বপ্নের যবনিকাপতন, মনে হয়, এখনি হওয়ার কথা ছিল, চলো রাত হয়

ত্রিরঙ্গ মুদ্রায় তুমি ধরেছিলে গোলাপী আঁচল

তোমায় কেঊ দেখতে পায় নি, উজ্জ্বল মঞ্চের সাঁঝবেলায়

তারপরেও তুমি চেয়েছিলে অশান্ত ঈশান কোনে সিঁদুরে সঙ্কেত

অশেষ বেনারসী পড়ে মণিকর্ণিকায় ।

তোমার আশায় কালো ধোঁয়া আর মৃতের সুঘ্রাণ

দশ্বাশ্বমেধের  সন্ধ্যারতি, তুমি , সুচিত্রা ।

আমি এক অদৃশ্য ভেলায়, দেয়াল পেড়িয়ে দুইপাশে

নীল আর গোলাপী বেনারসী পড়ে, তুমি আর ইরা ।

সাগর পারে সেদিন তোমার অভিমান

ভাঙা নৌকায়, আমি ।


Canto 1: Scene 15 

Monday, 4 March 2024

১৩. কাজল কথা

একথা সেকথার পর, তোমার অল্প নেশা হয় সেদিন, ইরা

অদ্ভূত আবেশ ছিল তোমার চোখে, স্বৈরতন্ত্রী জেদ

স্টিরিওতে গজল শুনতে চেয়েছিলে

ঘুমচোখে আমার কাঁধে মাথা রেখেছিলে

সুচিত্রার পাশ থেকে আমায় ডেকে এনেছিলে ।

চিনতে পারোনি অবশ্যই, ভেবেছিলে সুইসাইড প্যাক্ট

আমারও না চেনার কথা, তাও হাত না ধরে পারিনি

গাড়ি যখন পার্ক স্ট্রীট, তুমি জড়ানো গলায় জন্মান্তর,

আরো কিছু দূরে আমার বাড়ি, তোমার তাড়াতাড়ি

হয়ত বা ভালবাসা, বা আমারই নামান্তর ।

 

পা টলবে না কিছুতেই, যতই অন্তরঙ্গ তোমার দীর্ঘশ্বাস

রাতের  আসর  একান্তই বহিরঙ্গ, না হয় নাই বা গেলে

যদিও সেখানেই দেখা হয়েছিল, বিরহের সুরে ।

অনেক রাত সেদিন , 

বলেছিলাম আমি আছি , 

ত্বমাগায়ী সন্তরিতায় তুমি মৃদায়িনী

নিশিপদ্ম সায়ন্তীতে তুমি হৃদয় বন্দিনী ।

গজলের অধীরতায় 

কাজলে কাজলে মেঘমল্লার

তোমার নিশ্চিন্ত সমর্পনে,

একান্ত বিরহতায়

অধরে অন্তরে তন্দ্রিমতা ,  

তোমার রাত হয়েছে

আমার ফেরার পথ নেই ।


Canto 1: Scene 13


Thursday, 15 February 2024

৫. সাদা অপরাজিতা

সাদা অপরাজিতার চন্দ্রাতপে তোমার দীর্ঘশ্বাস

লোহিতকণিকায় অযথা আলোড়নে

তুমি সুগ্নন্ধী  স্পর্শ করেছ কণিষ্ঠায়

সুরসরগমের নিভৃত সবিনয়ে,

আমাকেই করেছ বিরাগভাজন ।

 

যত অভিমান, করেছ সমর্পন,

অশরীরি আঁচলে জড়িয়েছ আমার স্মৃতি

বারবার চলে যাওয়ার অনাদায়ে

তোমায় মনে রেখে আমিও সন্তরণ

বহুবার পেরিয়েছি এ সাগর পূর্ণিমায়

মৃত্যুর পরেও যে মৃত্যু

সেই অগম অহমিকায় ।

 

আমি গেয়েছি তোমারি গান

স্মৃতিসুধায়, সাধক মণিকোঠায়

আমি গেয়েছি তোমার গান ।

 

স্বৈরী স্বতঃ, তামস সাগ্নিতা, মৃণালিনী, সূর্য বিম্বাধর,

স্তিমিত অস্তি, অর্থী অতল, আরও গভীরে, কার্ষ্ণ সর্পরাগ

পাকদণ্ডী বিস্ময়, শিরি তীক্ষ্ণ, রুধির, সুধীর স্বয়ম, মধ্যমা ঊর্ধ্বাগতি

আসিছ আলয়, যমালয়, প্রেয়সী, শাণিত শায়িতা ।

 

শুদ্ধ ক্রোধ, বিরাগ তনয়া, হানিছ গরল ; ত্বমঃ, মৃতা বিস্তৃতি

অর্থী অতল, অন্তর, গভর,  আরও, আরও গভীরে, 

শিরি তীক্ষ্ণ, শিরি মধ্যমা, শিরি গাঢ়, সহিয়াছি অলীক,

আসিতে সাধ, অসিতে রাগ, আসিতে দাও, অসিতে চাও

সায়নী শুদ্ধা, রাগ ভৈরব, ভৈরবী, অহম্‌ গাহি

মধুরা সধবা, প্রণয় তৃষ্ণা, প্রেম রাখি হারায়ে  ।

 

আসিও সকাশে, ইত্য অবকাশে, অক্ষিপাত অহ,

প্রচণ্ড অস্তি, সুচন্দ্রা সম,  মৃণালিনী, চন্দ্র  ওষ্ঠাধর,

অস্ত কালে, চান্দ্রেয়ী চাহিল, নিঃশব্দে

হৃদি সঙ্গীত, গাহিল,

অব্যক্ত ।

 

নীলাভ অঙ্কিত নক্ষত্রের বিদিশায়, তুমি সধবা হতে চেয়েছিলে ইরা।  তোমায় অনেক বোঝালো পাড়াপড়শী,  জেদ তোমার, আমায় যে পাও নি । এরা কারা, আরও অনেকবার আমায় বলেছো, চলো দূরে কোথাও থাকি । আমি ভরসন্ধ্যায় অনেকের ভিড়ে, তোমায় এঁকেছি, অযান্ত্রিকে । পদ্মপাতায় জল, তাও ধরে রাখি রঙের তুলিতে, যদি তুমি দেখো ।  সবাইকে পেরিয়ে, পদ্মা, ইরাবতী, আমি আর তুমি, অনন্ত নক্ষত্রবীথি । 

এ কাল-বাসরে নক্ষত্র পূজিতা তুমি, তোমার আশঙ্কায় পদ্মায় নামে ধ্বস, পলিমাটির বলিরেখায় তুমিই এঁকে দাও রক্তচন্দন ।

অনন্তনাগ গ্রস্তা, বাগদত্তা তুমি, ভাবিয়াছ কী অপরিমেয় প্রশস্তি, তাঁহার মনন অভ্যন্তরে ? জানিয়াছ কী ভরা কোটালের দীর্ঘশ্বাস, অলস নৌকাবিহারে ? অতনু অনিকেত আমি, আমি জানিয়াছি তোমারে ।

বিমর্ষ সাগরপারে মণিভস্ম দিয়ে সাজিয়েছি তোমার নাভীপদ্ম । তোমায় এঁকেছি কাঁচা সোনার রঙে, আর তামাটে সূর্য্যের প্রজ্জলিত পাথরে । তুমি নাগরী, গাইয়ছি তোমারি গান, শোক সঙ্গীতে ।  জেনো তুমি নিশ্চিত, এ মায়ানগরী ছাড়ি, এ চিতাভস্ম উড়ি, এ শ্মশান গড়ি, করিয়াছি তোমারি পূজা অনন্ত বীক্ষিত । রাখিয়াছি তোমারেই হৃদি, যদি বা ফিরিতে পারি ।

Canto 1: Scene 5






১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...