সত্যনারায়ণ ব্রতপালনের
আয়োজন তোমার সম্পূর্ণ ।
মৃদু সুরে মন্ত্রপাঠে তোমার অনীহা, সত্যের
জয়গান এত অসম্পূর্ণ হয় না ।
বারবার দেখে নিয়েছ, এ
পূজোর রোশনাই ধীরস্থ, এ প্রার্থনায়
নেই মিথ্যা প্রশস্তি ।
প্রেমরূপে চেয়েছ যারে, তাকে
ঘিরে সকল মিথ্যা যেন যায় হারিয়ে ।
মন স্থির করো,
সম্যক আসি বধি নারায়ণে ।
সে আসবে,
ছিন্ন করতে ভণ্ড অহংকার, সকল
ঔদার্য্য ত্যাগ করি, ধরিবে
রূপ বিরাট ।
তুমি অপেক্ষা করে আছো,
শান্তিনিকেতনের বেডরুমে, একপাশে
তোমার পূজোর ঘরে ধুপ জ্বলছে ।
আলোয় সাজিয়েছ এ মায়াসংসার, ফিরে
আর যাবে না সেই দুর্বিপাকে ।
মন স্থির করেছ, অচঞ্চল
প্রদীপশিখায় ।
তোমার নিঃশ্বাস শান্ত, ঠোঁট
কাঁপছে অস্ফুটে ।
অশোক পূর্ণিমায়,
আর কৌষিকী অমাবস্যায়
বা তার পরের কোনও এক দ্বাদশীতে
দ্বাপর,
ত্রেতা, পেরিয়ে
যে সত্যযুগ
সে যুগান্ত,
ললাট চন্দনে এঁকে নিয়েছ তুমি ।
তোমার ভ্রুমধ্যে,
চাঁদের তেরোপার্বণ মিলায়
তোমার হাসিতে,
নারায়ণী ব্রতপালন ।
তুমি একবার ফিরে এসো এই
নদীতীরে
যেখানে নেই,
সেই পুরনো মন্দির
শুধু দীর্ঘশ্বাস নাগকেশর
আর অপরাজিতার ,
চেয়ে নিয়ো স্তব্ধতার বিবরণ
আলেখ্য তোমার তো সবই পরিচিত
আরও কতবার ফিরি আমরাই
,
এ পারাপার পেরিয়ে আরও
কত আকাশগঙ্গা
পশলাভর পেলবতা তোমার শরীরে
পলিমাটির যে ধারাটি তোমার
চিবুক
সুগ্রহী কাল তোমার পাণিপ্রার্থী
,
প্রতি রাতে আমরা
মনে করো,
অধরা রক্তগোলাপ ,
ফুলশয্যা আমাদের এখনো
সাজানো
শান্তিনিকেতনের সেই বাড়িতে
সরানো হয়নি রোশনাই
আমরা এখনও বিবাহিত ।
সাঁঝবাতিতে তুমি এঁকেছ
আল্পনা
হীরের ফুল দিয়ে সাজিয়েছ
ঘর
আলতা পায়ে পাশের শণিযোগে
শুদ্ধা তুমি নিরুদ্ধ আনাগোনা
।
রক্ত নীরব
সূর্য্য তোমায় মিলায়
মৃত্যু শ্লোক,
পঞ্চতন্ত্র বিলয় ।
এ মহাপ্রলয়
কালী,
তুমি এসো আমার ঘরে
লক্ষ্মী,
তুমি এসো আমার ঘরে ।
পৃথা, তুমি
হারিয়ে যেও সমুদ্র
আমাদের গ্রীণহাউসে আমি
অর্কিড
নিশি
পদ্মে আঁকি তোমায়
শণয়া তুমি এসো আমার ঘরে
সম্যক আসি বধি নারায়ণে
।
অস্তরাগে তোমার ছায়া সরে
সন্ধ্যা পরে এসো আমার
ঘরে ।।
Canto 1: Scene 19

