Showing posts with label Rock Opera. Show all posts
Showing posts with label Rock Opera. Show all posts

Saturday, 17 February 2024

৭. মধুশালা

যে পথে গেলে আমায় পাবে, সে পথ তোমার সবসময় অচেনা মনে হয় ।  গ্যাসলাইটের ঘোলাটে আলোয় খিদিরপুরে তুমি আমায় দেখেছিলে, অনামী কোনো মধুশালায় । তুমি নিয়ন আলোয় সেজে উঠেছো, রাতের পোষাকে । তোমায় দেখে আমি চোখ ফেরাতে চেয়েও, দৃষ্টি ফেরাতে পারিনি । আকন্ঠ তোমার বিষ আমায় পরিপূর্ণ করেছে । যেমন নৌকার গায়ে নদীর ছল্‌ছল্‌, তেমন তুমি নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলে আমায় । ডুবে গেলে যাবে, এখন আমায় ভুলে থাকো ।

আমায় জড়িয়েছিলে ওড়নায়, অজানা কোনও নামে ডেকেছিলে আমায় । আমি সাড়া দিতে চেয়েও পারিনি ।  সে সময় যখন অতিক্রান্ত, তুমি হাত বাড়িয়েছ । তোমার শরীরে ভুলিনি সেদিন, শুধু মদের দাম চুকিয়ে চলে এসেছি, যাতে কেউ চিনতে না পারে ।

তার পরে তোমায় যেদিন দেখি, তুমি কোথাও যাচ্ছ । আমায় দেখে না চেনার অভিনয় করলে, যদিও আমি ঠিকই জেনেছি তোমায় ।

 

পার্থিব তন্দ্রিম বর্ণিমা, কুয়াশা অস্থির রতি, তামসিতা তোমার রাগিনী

অমার্জিত সম, ত্বমঃ, তুহ অতি শৈব্যা যেবতি, অপারগ

অর্থানর্থ ভাববার সময়, চেয়ে নিয়ো আমার অনন্ত শোণিত ।

অর্চনা দিও, আর অঙ্গীকার, বৃথা পাপ সংসর্গ ।

চন্দ্রচূড়া মানসী, অক্ষিপাতে চেও শাপিত ত্বরায় ।

সাঁঝ এলো বলে, সাধভক্ষণের সময় ঘনায় ।

 

সঞ্চার সন্ধান রহিত যে জন্মকথা, তা একান্তই তোমার আমার ।  আমরা কোনদিনই ঠিক বুঝে উঠতে পারি না, এই উৎসবের ভিড়ে, আমাদের আলাপচারিতায়, ঈশান কোনে মেঘ জমে । সে অস্তরাগ বুকে নিয়ে, সুচিত্রা তুমি মোহিত করেছ আমায়, জলপথে সন্তরিতা হরিণীর ন্যয় । পেয়েছি আমি তোমায় অস্ফুট মূর্চ্ছনায়, ইতস্তত মৃতদেহের ভিড়ে, যেখানে শুধু তুমিই পূজিতা, মৃত্তিকা রূপে । কোনও এক রাতে, শ্মশানে, মৃত্যুপুরীতে, আমি অপেক্ষা করেছি তোমার প্রার্থনায় । তার আগে আকন্ঠ গ্রহণ করেছি রুধির । সে সুরা পানে, মোহমুগ্ধ আমি, চেয়েছি তোমায়, রজনীগন্ধায়, আর সন্ধ্যাপ্রদীপে ।

 

সুচিত্রা, তুমি আমায় জানাতে পারতে

তুমি অভিনয় একটুও পারো না ।

যা কিছু বলেছ, তা মিথ্যা নয়

যা কিছু বলোনি, তা সত্যি নয় ।

 

আমি জেনেছি তোমায়, শেষ প্রদীপের আলোয়

আমি জেনেছি জন্মদিনে, একান্ত আপনে

তোমার অন্তহীন মৃত্যুতে, আমার নৈশ বাসরে ।

Canto 1: Scene 7 





Friday, 16 February 2024

৬. অব্যক্ত

অবলীলায় নীল বলে ডাকলে আমাকে ।  বিষাদঘন কোনও মুহূর্তে যেমন ভোরের আকাশ মন ছুঁয়ে যায়, তোমার সহজ সাড়া পেয়ে আমিও একাকী ।  প্রয়াতের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেই বলি, ফিরিয়ে নিয়ো না এই মায়া শরীর ।  হয়ত আজ রাতে আমরা দুপাশ ফিরে ঘুমোই, দুই আলাদা বিছানায়, আমাদের মাঝখানে শুধু অব্যক্ত কথার ভার । রাত আরো গভীর হলে তুমি স্বপ্নের মধ্যে অস্ফুটে কিছু বলে ওঠো । আমি ওপাশ ফিরে, যাতে আমার চোখের জল তুমি দেখতে না পাও । তুমি ঘুমোচ্ছ, আমি বুঝতে চেষ্টা করছি, তুমি কী বললে ।  হারিয়ে গেছে,  কিছু কথা না বলাই রয়ে যায় । কাল সকালে তোমার হয়ত কিছুই মনে থাকবে না, আমরা যে যার মতন দিনযাপন করি আপাত ব্যস্ততায় । 

 

সুচিত্রা, নেশা ছন্দ আঁচল, অনাবিল অপার্থিব, আসোনি সাগর সঙ্গমে

বিষাদ জোছনায় বেঁধেছ চরা, গাঢ় সঙ্গীতে ডেকে নিয়েছ রাতপাখী

আর ধীর সঙ্গমিত, অন্তরিত অবসিদ্ধ , সে আমি, আমাকেই ভাবিয়াছ সায়নীত

নির্দিশায়, নিষিদ্ধ সঙ্গমে শিড়দাঁড়ায় বেঁধে নিলে বটগাছের যত শাপ,

স্তব্ধ, স্তব্ধ, স্তব্ধ,

সে হৃদি মৃত, যে গাছে অভিশাপ পাথর ।


অবিকল্প দোটানায়, জোয়ার ভাঁটায়

চূর্ণি হীরি আর বৈদূর্য্য মণি, সে ত্বরিত

হৃদিপদ্মে সর্প,

স্থিত, স্থিত, স্থিত ।

অঙ্গরাগ বিতৃষ্ণ, আভাস সে শীষ্‌ , বিভাসে বিহনিত

শোনে না কেঊ, আমি অর্ধনীমিলিত ।

নদী, নদী, নদী

সে গ্রাস করে

গ্রস্ত, গ্রস্ত, গ্রস্ত

এ দ্রোহকাল, চন্দ্রগ্রহণ ।

 

সে এসেছে, শবের ভেলায় শুয়ে,

সাপে কাটা দেহ, আরো বহুবার

তৃপ্ত সে দংশনে ।

রাত, রাত, রাত

ফিরে এসো অণ্বিতা, সে নেই ।

 

তোমায় আমি বিদীর্ণ করব মহাকাল ।

বড় বিরাগ তোমার শয়ন, সঞ্চিত হও আমায় ।

মৈত্রেয়ী মরণ সকল, জেনেছিলে সুতীব্র শিহরণ ?

মুগ্ধতা রয়েই বোলো, হয়ত মিশে যাবে কাল প্রহর ।

মৃত্যু জানিয়াছি আমি, জোছনায় গর্ভপারে, সে শ্মশান,

মরণ সমাসীন ।

 

সন্ন্যাসী, জেনেছি তোমায়,

তুমি রতি আসীন ।

রতি, রতি, রতি

ফিরে যেও মণিবন্ধ অ-মন

আমি অমানিশা, বিষাদ, অপার্থিব গহীন ।

 

নীলি, কালপুরীতে অশেষ বিষাদ তোমার

তুমি শ্মশানে চেয়েছিলে বিস্তৃতি –

আরও, আরও, আরও

নিহন্তা কাঁকল ।

 

পৃথা সম্মত, তৃপ্তি তোমার কৌষিকী

আমায় কালো রঙে সাজালে অনায়াসে

অনিবার্য্য কোনও মাদক তোমার আতিশ ।

তুমি বোঝনি, সে মরণ আমিই

 হৃদি তর্পনে বিবাদী, আমিই বিষাদ, আমি অনির্বান সত্য ।

 

তুমি চাওনি, চেয়েছিলে তবু, মারক আলোয়

 তোমায় আমি হত্যা করব পুরুষ

বৃক্ষ শায়িত, নদীর আহরণ

বলো নীলি, জেনেছিলে সুতীব্র শিহরণ ?

বলো, মুগ্ধতা সরিয়েই বোলো,

হয়ত ভুলে যাবে, এ দ্রোহকাল ।

বিকেল হাহাকার, তাও তুমি স্থির,

বুকে শীত নিয়ে, আমি তে বিস্তৃতি, আর আমি তে বিরহী

অমানিশা আসিল সে দিন ।

Canto 1: Scene 6





১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...