Showing posts with label Avinash. Show all posts
Showing posts with label Avinash. Show all posts

Friday, 29 March 2024

১৬. মৃত্যু প্রেম

মৃত্যুর  নিরন্তর হৃদ্যতায় তুমি চোখ মেলে চেয়েছিলে । আমি যেন নিবিড় প্রেমে তোমার চিবুক স্পর্শ করেছিলাম ।  তোমার সজল আঁখিতে সেদিন যেন শুধু হারিয়ে ফেলার ডাক । সুরভিত এক নিশিরেখায় আমায় দিতে চেয়েছিলে এই জন্মের শেষ দেয়ানেয়া , চলে যেতে চেয়েছিলে অনেক দূরে , যেখানে আমার একাকীত্ব যেন তোমায় আর ডাক না দেয় ।

তোমার সেই আবেদন আমি অস্বীকার করি । বিরহের অন্তরীন নির্ভাবে তোমার কাছে চেয়েছিলাম 

একান্ত প্রতিশ্রুতি , অন্তত চলে যাওয়ার এই মুহূর্তটি যেন আমাদের মনে রয়ে যায় , একাকীত্বের 

অশেষ নির্বাণে যেন আমাদের কথা বাকী রয়ে যায় , মৃত্যুময় এই প্রহেলিকায় যেন আমাদের বিশ্বাস না হারায় ।

তুমি মুখ ফিরিয়ে নিতে নিতে আর একবার ফিরে চেয়েছিলে , শহরের প্রাণহীন আলোছায়ায় আমার 

হাত ধরেছিলে , বলেছিলে,  আমার জন্য অপেক্ষা কোরো না । নিশিকন্যা তুমি , নিশি পরে মিশে গিয়েছিলে । 

আমার চারিপাশে তখন শ্মশান, আমি হয়ত মরে গিয়েছিলাম , না হয় একদিন তুমি সেটাই চেয়েছিলে ।

মনে পড়ে, প্রথম যেদিন তুমি আমায়  দেখেছিলে

মৃত্যুশোক দিয়ে এঁকেছিলে ঠোঁট, চোখে দিয়েছিলে ঘন কাজল

দূর থেকেই হয়ত, তা’ও ভুলে যাওয়া ভালবাসায়

ফিরে তাকিয়েছিলে কালো জলের আয়নায় । 


আমার নীহারতায় সেদিন আকাশী বিভাব

হৃদয়ের মন্দ্রিম নিঃসীমে তোমার হারিয়ে ফেলা একটা ছবি

সেই ছবির অন্তরতায় শুধু তোমায় না পাওয়ার কষ্ট ,

আমাকে বলেছিলে এবার পূজোয় আর দেখা হবে না

আমার আয়নায় তুমি সেদিন মৃত্যুর মত স্পষ্ট ।

Canto 1: Scene 16

Sunday, 17 March 2024

১৫. নিশান্তরী

প্রেমের পুণ্যশ্লোক একদিন তোমার মনে হয়েছিল একান্তই অবান্তর ।

এ সব কথা বিকেলের টেলিভিশনে তাত্ত্বিক আলোচনার জন্য তোলা থাক । পয়সা ফেললেই 

ভালবাসার তামাশা দেখা যায়, কোথায় বিক্রি হয় মন, কে দেয় দাম, কারই বা আছে কেনবার দায় !  

সব প্রেম হয়ত পরিণতি পাবে না, শোয়ার আগে প্রসাধন তুলে ফেলার মত তুমি একদিন সব বিদ্বেষ  

ভুলে যাবে। তোমার শুধু মনে থাকবে নদীর পারে সেই গাছ ,যার সবুজ পসরায় তুমি এমনিই বসেছিলে 

কিছুক্ষণ । নীল শাড়িতে সেজে ওঠা সেই মেয়েটা , পৌষ মেলা থেকে সে কিনেছিল বাউল পুতুল , 

তুমি ওর দেখাদেখি মাটিতে এসে বসেছিলে । দূরে কেউ গাইছিল, মানব জমিন নিয়ে 

একটা গান , যা তোমায় অল্প ভারাক্রান্ত করে তোলে । ইরা একদিন এই গানটা নীল গীটারে গেয়েছিল ।

আমি শুধু, খুব কাছ থেকে দেখব তোমায়, এই সহজতায়, শব্দ সাজাতে থাকি । তোমায় উপহার দিই 

নিশ্চয়তা, শৈল্পিক অভিমান, যাতে তুমি নিজের মত দাম মেটাতে পারো । তোমার কোন ঋণ আমি 

রাখিনা , না রাখি কোন অনাবশ্যক পরিচয় যা তোমায় অল্প ভারাক্রান্ত করে তোলে ।


অন্তহীন দ্বেষ পেরিয়েও তুমি একইরকম নির্বিকার

এরকমই হওয়ার ছিল, আমায় অনায়াসে  বলেছ তুমি

চলে যাওয়ার কোনও বিশেষ  মুহূর্ত  হয় না ।

 

যে কোনও লহমায় সহজে ফিরে আসা যায় ,

অনামিকায় ধারণ করি স্মৃতিবিজড়িত হলুদ পাথর ।

এ স্বপ্নের যবনিকাপতন, মনে হয়, এখনি হওয়ার কথা ছিল, চলো রাত হয়

ত্রিরঙ্গ মুদ্রায় তুমি ধরেছিলে গোলাপী আঁচল

তোমায় কেঊ দেখতে পায় নি, উজ্জ্বল মঞ্চের সাঁঝবেলায়

তারপরেও তুমি চেয়েছিলে অশান্ত ঈশান কোনে সিঁদুরে সঙ্কেত

অশেষ বেনারসী পড়ে মণিকর্ণিকায় ।

তোমার আশায় কালো ধোঁয়া আর মৃতের সুঘ্রাণ

দশ্বাশ্বমেধের  সন্ধ্যারতি, তুমি , সুচিত্রা ।

আমি এক অদৃশ্য ভেলায়, দেয়াল পেড়িয়ে দুইপাশে

নীল আর গোলাপী বেনারসী পড়ে, তুমি আর ইরা ।

সাগর পারে সেদিন তোমার অভিমান

ভাঙা নৌকায়, আমি ।


Canto 1: Scene 15 

Monday, 4 March 2024

১২. তোমায় দেখতে চাওয়া

অতি সহজে তুমি এড়িয়ে যাও অন্তরতার মুহূর্ত 

তোমার চোখের আড়ালে, মেঘনা এসে মেশে সাগর পরে

কোন রঙটা মানাবে তোমায়, যে কোনো দোটানায়

তোমারি রঙীন , তোমারি সাদা কালো

তুমিই ভালো চেনো ।

 

আমায় সোনা বলে ডেকো , তুমিই একদিন বলেছিলে

পথ চলতে চলতে, ডাক দাও অকারণ আলাপনে

হঠাৎ মনে পড়ে, এ কথা হয়ত বলতে চাওনি

বা বলা হয়নি ,

নিঊ মার্কেটে আসনপিঁড়ি , তুমি অশরীরি

নীল পাড়, না গোলাপী, হয়ত বা লাল বা কালো

তুমিই ভালো জানো ।

 

তাও হঠাৎ আগমনী সুরে, সুচিত্রা, আমায় বলো, এবার পূজোয়

হয়ত ফিল্ম ফেস্টিভাল, বা বইমেলা, এখন সময় নেই,

সে যে আমিই, আমার অনেক নাম

সব কাহিনীর শেষে, আমাকেই চেয়ে ,

বলতে চাওনা কিছুতেই

কষ্ট পাও তুমি ।

আমায় সোনা বলে ডেকো , তুমিই একদিন বলেছিলে

চলে যাওয়ার আগে , কেঁদে ফেলেছিলে ,

কোন রঙটা মানাবে তোমায়, যে কোনো দোটানায়

তোমারি রঙীন , তোমারি সাদা কালো

তুমিই ভালো চেনো । 


Canto 1: Scene 12






Saturday, 24 February 2024

১০. রূপালী

তোমার অন্তরীণতার নির্মোক আমায় বিরল করে । সাঙ্গীতিক রূপালীতে তুমি আমায় ডাকো , তোমার অলিখ নির্বাসনে মধুরিত যে হৃদয় , তাহার অবয়বে যেন এক প্রাচীন বৃক্ষ বনান্তরী হয় । আমি তোমার প্রাকারের সীমানায় ছবি আঁকি , তোমায় না পেয়ে হারিয়ে যাই আদিম অন্ধকারে, আস্বাদ করি আশীবিষচূর্ণ, চোখের তারায় ভেসে ওঠে জ্যোৎস্না ।

আমায় হত্যা করেছে তোমার বিরহ, আমি প্রাণভয়ে করিনি পলায়ন । অন্তরায় সুর বেঁধেছি অশনির, তার পরেও বারবার ফিরে আসি তোমার শেষ সাবধানবাণীতে । 

এসো না আমার ঘরে, এখানে রাখা আছে আজন্ম প্রতিশোধ । এ ঘরে রাত্রিবাস করে না কোনো সাধু । 

চলে যাও দূরে , আরো দূরে , যেখানে আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল ।

তোমায় সূর্য্যমুখীর আলোয় দেখেছি প্রতিনিয়ত । জানি তুমি থাকবে না কিছুতেই । তার পরেও, তোমার চলে যাওয়ার পথে আমি বিছিয়ে দিয়েছি মখ্‌মলের গালিচা । হয়ত বা অনর্থক, তাও তোমার পথ চেয়ে থাকি ।

সন্ধ্যাবেলায় রাগ বিহাগে লেখা কিছু শব্দ

আর কালো নদীর তীরে পুরনো শিবমন্দির

অস্পষ্ট স্মৃতিচিহ্ন, সেদিন সকালের মত ।

বাঁশীর সুর ভেসে আসে, এদিনের কাহিনী আপন মনেই ফুরোয়

শেষ নেই এই অবিরাম যাওয়া- আসার ,

মেঘ বৃষ্টির নামান্তর

আরো দূরে কোনও আন্তরিক মজলিস ।

এ বছর হয়ত আর যাওয়া হবে না বাউল মেলায়

তুমি আসোনি , তোমার চিঠি পাইনি এখনো ।

বৃক্ষ তাঁর নিজস্ব সুচিন্তনে

নদীর বুকে আলোছায়া

তুমি আর আমি

স্বর্ণযুগের প্রেমিক প্রেমিকা

আমাদের রাত শেষ হয়

নিঃসীম দিনযাপন ।

 

অন্য কথায় তুমি হঠাৎ যেন অচেনা

আনমনে ভাবছ আজ এত একা

আকাশগঙ্গায় তোমার রূপ রঙ আলো

তার ও দিনরাত অযথা ,

এ সময় জানে

তোমার গহীন অস্মিতা  ।

নির্জন তোমার নূপুরে রাতির সেঁজুতি

সেদিন তুমি অস্পষ্ট জলছবি

তোমায় দেখতে চেয়ে অকারণ পথচলা ।

 

তুমি তাও জেনেছিলে,

হিমশীতল রাতে

তুমি তাও জেনেছিলে

আমাকেই অজানা কোনও সুরে ।

Canto 1: Scene 10





Wednesday, 21 February 2024

৯. পদ্মপলাশ

রাতভর পদ্মপলাশ বুকে নিয়ে, তুমি শুধু বলেছিলে, আমায় যেতে দিও । আমি ঘুমিয়ে পড়ার আগে প্রতিদিন বলি, এ স্বপ্ন যেন রয়ে যায়, না যায় চলে ।তাও তুমি কিছুতেই মানবে না, আমায় বলবে তুমি একা থাকতে ভালোবাসো , একার একটা ঘর , যেখানে স্মৃতির পাহারা , আমি নেই , তুমি নেই , শুধু একটা নীল ডায়েরী , সেখানে তোমায় লেখা একটা কবিতা। 

সেখানে সাদা ফুলের কেয়ারীতে যেন  মৃত্যুর অনিবার্য্যতা ।

ভোরবেলা তুমি বারান্দায় এসে দাঁড়াও , তোমার সাথে শহর কথা বলে , গাছে ঘেরা একটা পথ তোমায় নিয়ে যায় রাতের থিয়েটারে , হলুদ ট্যাক্সির নস্টালজিয়ায় আমরা পাশাপাশি বসে থাকি , তুমি নিজের অজান্তেই আমার হাত জড়িয়ে ধরো , তোমার ফরাসী পারফিউম আমায় নৈশিক করে , তোমার অভিমান আমায় বিষণ্ণ করে ।

তোমায় কিছুতেই খুঁজতে নেই, নন্দন প্রাঙ্গনে, রাতের শহরে ।

এক রাত কষ্ট নিয়ে তুমি একদিন বললে

আমায় চেয়ে চেয়ে রাত জেগো না

অন্য কথা সব থাক , আজ আমরা  ফিরে যাই যে যার ঘরে  ।

আজ শনিবার, আজ তুমি চৈতি নদী ,

আগের রবিবার আমার কাছে চেয়েছিলে বিরহ

কালকে আবার ভুলে যাওয়ার দিন ।

 

তোমার চিঠি পেয়েছিলাম

তুমি লিখেছিলে স্নেহের সুচিত্রা

তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে ।

তুমি যেন রাতভর ছবি আঁকলে

তারপর কোনও এক ভোরের অস্থিরতায়

যেতে দিলে আমায় নির্বাক রেখে

আমায় চেয়ে ফিরে যেয়ো না

কথা দিও আমায় ।

 

প্রয়োজন কী আমায় ভালবেসে

অহেতুক আমাতে শুধুই হাহাকার

নদী হয়ে আমি শুধু ভাঙি

এ সংসার, এ পরিমিতি ।

এ ঘর না হয় নাই বা হল আমার

প্রয়োজন কী আমায় ডাক দিয়ে

অহেতুক এক ভোরবেলার ছবি

আমায় চেয়ে ফিরে যেয়ো না

কথা দিও আমায়

সাগর চেয়ে আমি

তোমাকেই শুধু জানি । 

Canto 1: Scene 9

 










Monday, 19 February 2024

৮. ইচ্ছাপাথর

তোমার বিশ্বাস হয়না, এত সহজে সব ঠিক হতে পারে । এই তো ব্লু-প্রিন্ট, এভাবে, এভাবে, এভাবে, আর তারপর, এভাবে। তার পরেও মনে হয় অতীন্দ্রিয় কোনও শক্তি, সবার অলক্ষ্যে, নির্ধারণ করছে তোমার গতিবিধি । এ পৃথিবী তাকে চেনে না, চেনার প্রয়োজন ও নেই । না চিনল, তুমি তো জানো আমায়, আমি তো তোমার বিশ্বাস ভাঙিনি ।

তোমার বুকে ইচ্ছেপাথর, আমি তো দাগ কাটিনি । জানি, সেদিন আমাদের ফ্রেমে বাঁধানো ছবিটা ভেঙে দিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি বলো, আমরা কি সেই মুহূর্তে ভালবেসেছিলাম ? 

হয়ত ।

( তোমাকে লেখা একটি চিঠি )

ইরা, তুমি বলেছিলে একদিন আসবে

তুমি জানতে, কোথাও এক স্থির বিন্দুতে আছে নিহিত

আমাদের একান্ত পরিণয় , আমাদের বিভিন্নতার অস্তিত্ব

অলিখিত এক সম্বন্ধ , যা শুধু দূরে নিয়ে যায়

সেই বিন্দু থেকে এক মায়াবৃত্ত

আমরা পথ হারাই গোলকধাঁধায় ।

 

সে সব জেনেও তুমি বললে, আজ না, এখনো অনেক দেরী

তুমি কি সে রাতে জেনেছিলে, পথ হারিয়ে ফেলার আমৃত্যু খেলায়

শুধু ফিরে চাইতে নেই , শুধু অপেক্ষা করতে নেই?

আবার হয়ত বা আমাদেরই আন্তরিক জটিলতা

বিরহের সন্ধ্যায় আমাদেরি অশনিতা ,

যদি কোনোদিন সময় পাও, চিঠির উত্তর দিও

বোলো আমায়, ঘর ছেড়ে যাওয়ার সুবর্ণ ইচ্ছাপাথর

অযথা না ভালবেসেই বোলো

চোখের কাজল সাজিয়েই বোলো

দূর থেকে দেখা কিছু অদর্শন

তার ও কী থাকে  হারিয়ে যাওয়ার অধিকার

এই তর্কের মীমাংসা চলো আজকেই করি

আজ সকালেই লিখে ফেলি বিয়ের চুক্তিপত্র ।

 

তার পরেও তুমি বলবে

কী মানে আছে এক সাথে পথ চলার

না হয় আরও একবার হারিয়ে গিয়ে দেখি

তোমায় খুঁজে পাই যদি এ মায়াবী সংসারে

এর পরেও তোমার অনেক কথা বাকী

আমায় বলতে চেয়ে

কেন তুমি বারবার ফিরে আসো

বিকেলের একান্ত  সীমানায়

যেখানে  একলাটি সেই বাড়ি

একটা ডায়েরী

আর তোমায় লেখা একটি চিঠি ।

 

হয়ত এগ্রীমেন্টে লেখা নেই

আমায় নীল বলে ডেকো

সাড়া দিও আমার দুঃস্বপ্নের আয়নায়

কোথাও কী লিখে রেখেছো

অভিশপ্ত এক প্রতিশোধ ।

বলতে গিয়ে যদি কথা হারাও , 

তা সত্ত্বেও আমি জানি

তুমি আমাকেই ভালোবাসো ।

Canto 1: Scene 8



Saturday, 17 February 2024

৭. মধুশালা

যে পথে গেলে আমায় পাবে, সে পথ তোমার সবসময় অচেনা মনে হয় ।  গ্যাসলাইটের ঘোলাটে আলোয় খিদিরপুরে তুমি আমায় দেখেছিলে, অনামী কোনো মধুশালায় । তুমি নিয়ন আলোয় সেজে উঠেছো, রাতের পোষাকে । তোমায় দেখে আমি চোখ ফেরাতে চেয়েও, দৃষ্টি ফেরাতে পারিনি । আকন্ঠ তোমার বিষ আমায় পরিপূর্ণ করেছে । যেমন নৌকার গায়ে নদীর ছল্‌ছল্‌, তেমন তুমি নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলে আমায় । ডুবে গেলে যাবে, এখন আমায় ভুলে থাকো ।

আমায় জড়িয়েছিলে ওড়নায়, অজানা কোনও নামে ডেকেছিলে আমায় । আমি সাড়া দিতে চেয়েও পারিনি ।  সে সময় যখন অতিক্রান্ত, তুমি হাত বাড়িয়েছ । তোমার শরীরে ভুলিনি সেদিন, শুধু মদের দাম চুকিয়ে চলে এসেছি, যাতে কেউ চিনতে না পারে ।

তার পরে তোমায় যেদিন দেখি, তুমি কোথাও যাচ্ছ । আমায় দেখে না চেনার অভিনয় করলে, যদিও আমি ঠিকই জেনেছি তোমায় ।

 

পার্থিব তন্দ্রিম বর্ণিমা, কুয়াশা অস্থির রতি, তামসিতা তোমার রাগিনী

অমার্জিত সম, ত্বমঃ, তুহ অতি শৈব্যা যেবতি, অপারগ

অর্থানর্থ ভাববার সময়, চেয়ে নিয়ো আমার অনন্ত শোণিত ।

অর্চনা দিও, আর অঙ্গীকার, বৃথা পাপ সংসর্গ ।

চন্দ্রচূড়া মানসী, অক্ষিপাতে চেও শাপিত ত্বরায় ।

সাঁঝ এলো বলে, সাধভক্ষণের সময় ঘনায় ।

 

সঞ্চার সন্ধান রহিত যে জন্মকথা, তা একান্তই তোমার আমার ।  আমরা কোনদিনই ঠিক বুঝে উঠতে পারি না, এই উৎসবের ভিড়ে, আমাদের আলাপচারিতায়, ঈশান কোনে মেঘ জমে । সে অস্তরাগ বুকে নিয়ে, সুচিত্রা তুমি মোহিত করেছ আমায়, জলপথে সন্তরিতা হরিণীর ন্যয় । পেয়েছি আমি তোমায় অস্ফুট মূর্চ্ছনায়, ইতস্তত মৃতদেহের ভিড়ে, যেখানে শুধু তুমিই পূজিতা, মৃত্তিকা রূপে । কোনও এক রাতে, শ্মশানে, মৃত্যুপুরীতে, আমি অপেক্ষা করেছি তোমার প্রার্থনায় । তার আগে আকন্ঠ গ্রহণ করেছি রুধির । সে সুরা পানে, মোহমুগ্ধ আমি, চেয়েছি তোমায়, রজনীগন্ধায়, আর সন্ধ্যাপ্রদীপে ।

 

সুচিত্রা, তুমি আমায় জানাতে পারতে

তুমি অভিনয় একটুও পারো না ।

যা কিছু বলেছ, তা মিথ্যা নয়

যা কিছু বলোনি, তা সত্যি নয় ।

 

আমি জেনেছি তোমায়, শেষ প্রদীপের আলোয়

আমি জেনেছি জন্মদিনে, একান্ত আপনে

তোমার অন্তহীন মৃত্যুতে, আমার নৈশ বাসরে ।

Canto 1: Scene 7 





১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...