অবলীলায় নীল বলে ডাকলে আমাকে । বিষাদঘন কোনও মূহুর্ত্তে যেমন ভোরের আকাশ মন ছুঁয়ে যায়, তোমার সহজ সাড়া পেয়ে আমিও একাকী । প্রয়াতের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেই বলি, ফিরিয়ে নিয়ো না এই শরীর । হয়ত আজ রাতে আমরা দুপাশ ফিরে ঘুমোই, আমাদের মাঝখানে শুধু অব্যক্ত কথার ভার । রাত আরো গভীর হলে তুমি স্বপ্নের মধ্যে অস্ফুটে কিছু বলে ওঠো । আমি ওপাশ ফিরে, যাতে আমার চোখের জল তুমি দেখতে না পাও । তুমি ঘুমোচ্ছ, আমি বুঝতে চেষ্টা করছি, তুমি কী বললে । হারিয়ে গেছে, কিছু কথা না বলাই রয়ে যায় । কাল সকালে তোমার হয়ত কিছুই মনে থাকবে না, আমরা যে যার মতন দিনযাপন করি আপাত ব্যস্ততায় ।
সুচিত্রা, নেশা ছন্দ আঁচল, অনাবিল অপার্থিব, আসোনি সাগর সঙ্গমে
বিষাদ জোছনায় বেঁধেছ চরা, গাঢ় সঙ্গীতে ডেকে নিয়েছ রাতপাখী
আর ধীর মকর, ভক্ষ্য গ্রাস তক্ষক ।
নির্বিবাদ, নিষিদ্ধ সঙ্গমে শিড়দাঁড়ায় বেঁধে নিলে বটগাছের যত শাপ,
স্তব্ধ, স্তব্ধ, স্তব্ধ,
সে হৃদি মৃত, যে গাছে অভিশাপ পাথর ।
অবিকল্প দোটানায়, জোয়ার ভাঁটায়
চূর্ণি হীরি আর বৈদূর্য্য মণি, সে ত্বরিত
স্থিত, স্থিত, স্থিত ।
কোটরে সহবাস, আভাস সে শীষ্
শোনে না কেঊ, আমি অর্ধনীমিলিত ।
তীর, তীর, তীর
সে গ্রাস করে
গ্রস্ত, গ্রস্ত, গ্রস্ত
এ দ্রোহকাল, চন্দ্রগ্রহণ ।
সে এসেছে, শবের ভেলায় শুয়ে,
সাপে কাটা দেহ, আরো বহুবার
তৃপ্ত সে দংশনে ।
রাত, রাত, রাত
ফিরে এসো বেহুলা, সে নেই ।
তোমায় আমি বিদীর্ণ করব মহাকাল ।
বড় অকাল তোমার শয়ন, শোষিত হও আমায় ।
মৈত্রেয়ী মরণ সকল, জেনেছিলে সুতীব্র শিহরণ ?
মুগ্ধতা রয়েই বোলো, হয়ত মিশে যাবে কাল গহ্বর ।
রাহু কেতু শমন, জোছনায় গর্ভপারে, শ্মশান,
শয়তান সমাসীন ।
সন্ন্যাসী, জেনেছি তোমায়,
তুমি রতি আসীন ।
রতি, রতি, রতি
ফিরে যেও মণিবন্ধ অ-মন
আমি অমানিশা, বিষাদ, অপার্থিব গহীন ।
নীলি, কালপুরীতে অশেষ বিষাদ তোমার
তুমি শ্মশানে চেয়েছিলে বিস্তৃতি –
আরও, আরও, আরও
নিহন্তা কাঁকল ।
পৃথা সম্মত, তৃপ্তি তোমার কৌষিকী
আমায় রক্ত স্নানে সাজালে অনায়াসে
পৃথক কোনও শ্বাপদ তোমার আতিশ ।
তুমি বোঝনি, সে শরণ আমিই
শোণিতক্ষরণে বিবাদী, আমিই বিষাদ ।
তুমি চাওনি, চেয়েছিলে তবু, জান্তব আলোয়
তোমায় আমি বিদীর্ণ করব মহাকাল ।
বৃক্ষ শায়িত, নদীর আহরণ
বলো সুচিত্রা, জেনেছিলে সুতীব্র শিহরণ ?
বলো, মুগ্ধতা সরিয়েই বোলো,
হয়ত ভুলে যাবে, এ দ্রোহকাল ।
বিকেল হাহাকার, তাও তুমি স্থির,
বুকে শীত নিয়ে, আমি তে বিস্তৃতি,
অমানিশা আসীন ।
Canto 1: Scene 6

