Friday, 29 March 2024

১৬. পাশব

আমায় বিদীর্ণ করেছে আমারি শাণিত নখর নৃসিংহ রূপে আমিই করেছি হিরন্যকশিপু বধ চিনেছি আমার নিহন্তাকে, তার প্রস্তরীভূত নাগ শরীর এ কথা বলার আগে, ধর্ম আর অধর্মের সৃষ্টিছাড়া সংলাপ কন্ঠস্থ করেছি বিষ্ণুতন্ত্র বুঝতে গিয়ে দেখি, তা মূলাধারে অবিন্যস্ত সে মূহুর্ত্তে আমার মধ্যে নাই প্রেম, আছে শুধু পাশব ক্ষুধা, আর নাই কোনও প্রাণ তোমার প্রতি

প্রার্থনা করেছি প্রতিরাতে, হে ঈশ্বর, বধ করো আমায় নরকযন্ত্রনায় বৃদ্ধ আমি, চাহিয়াছি মৃত্যু আমি জানিতে চাই তোমায় আমি দেখিতে চাই প্রমাণ শুনিয়াছি পথে, অদ্ভূত এক আলেখ্য শুধু অসহায় যে, প্রহ্লাদ সম, সেই ভালোবাসিতে পারে আমি সর্বত্র দেখিতে চাহিয়াছি ঈশ্বর, নিজ মধ্যেও সন্ধান করিয়াছি অতিপ্রাকৃত

হিরণ্যকশিপু অসহায় শিশুরূপে শায়িত পিতার অঙ্কে, মৃত নার্সিং হোমে, থামের সামনে, রাধাকৃষ্ণের মূর্ত্তির সামনে দাঁড়িয়ে আমি

 

এ বিষাদ অভিপ্রেত, আমরা কোনও এক সময়ে মেনে নিই

জেনেছিলাম অন্য কোনও ক্ষোভ, আরও এক কলিকালে

জান্তব বৈষ্ণব তখন চতুর্মুখে দিচ্ছে পাহারা

প্রতিমূহুর্ত্তে আশঙ্কায় আত্মাহুতি

প্রতিরাতে প্রহর গণেছি, নিঃশব্দ অলীক নিয়মে

তুমি বোঝনি এ অন্তকাল

চেনো নাই বিশ্বাশহন্তা দুষ্মন্তরে

শুধু জানতে চেয়েছ, আরও কত যুগ পরে

রক্ষিবে আশা অন্তরে



 









আমি শুনেছি, সে রাতে তুমি, কেঁদেছিলে

হে ঈশ্বর বলে ডেকেছিলে, এক অসহায় ভাগ্যনিয়ন্তাকে

মরণ  সমীপে অনায়াসে এসেছিলে

করকমলে রেখেছিলে পত্রলেখা

শেষ স্মৃতিকণা দিয়ে সাজিয়েছিলে পাশব সোহাগ

সে সময় ও বিলুপ্ত হয়, আরও নিকষ কোনও অন্তরে

 

মনে পড়ে, প্রথম যেদিন তুমি আমায় চেয়েছিলে

রক্তনাম দিয়ে এঁকেছিলে ঠোঁট, চোখে দিয়েছিলে ঘন কাজল

দূর থেকেই হয়ত, তাও ভুলে যাওয়া ভালবাসায়

ফিরে তাকিয়েছিলে কালো জলের আয়নায়

বিস্তার করেছিল আমার স্পর্শ, তোমার চাহিদায়

ফিরিয়ে দিয়েও, নিজেই ফিরে এসেছিলে

আমায় অন্য আরো সম্বোধনে চেয়ে

আমায় অপূর্ণতা দিয়ে, এক পাশবিক আলেখ্যে



 







অরণ্যে গমন আমার, তুমি অরণ্যানী

অজাগর মোহ, জেনেছ আত্মনিবেদনে

এ অম্লান রতিক্রিয়া, এতে সমাহিত দক্ষিণ রায়

এ অগম পুরে, তুমি সুরক্ষিতা, জেনেছ এ সময়

প্রবাহিত মায়া, অশরীরি জলরাশি

ঘোর বৈষ্ণব আমি, আমিই শৈব

এ পার্থিব শরীরে, জেনো আমায়,

সুশান্তি আমাতেই আসি

Canto 1: Scene 16

Sunday, 17 March 2024

১৫. অসতী

সব কথা হয়ত পরিণতি পাবে না, তা অনস্বীকার্য্য কোথায় বিক্রি হয় শব্দ, কে দেয় দাম, কারই বা আছে কেনবার দায় এ সব কথা বিকেলের আলোচনার জন্য তোলা থাক তাত্ত্বিকেরা ভেবে দেখুক, তুমি সতী না অসতী, তাতে আমার কিছু এসে যায় না আমি শুধু, খুব কাছ থেকে দেখব তোমায়, এই তথ্য নিজেকে বলে, শব্দ সাজাতে থাকি তোমায় উপহার দিই নিশ্চয়তা, সামাজিক অভিমান, যাতে তুমি নিজের মত দাম মেটাতে পারো চলো নিঊ মার্কেটে যাই, আজ সেখানে রতি অপেক্ষা করে আছে ও আজও উপোস করেনি, কারণ তুমি প্রস্তুত নও

 

সমবায়িকায় তুমি জেনেছ ভালবাসার তুল্যমূল্য বিচার

অসাড় কোনও সমিতির প্রস্তাবনায় ছিল না এ কথা

তার পরেও তোমার সূক্ষ্মবিচার, তুমি জানবেই

কোথায় রাখা আছে যক্ষ্মপুরীর রত্নভাণ্ডার

প্রেমহীন কোনও বাস্তবে নয়, যেখানে স-তলে সৃষ্টি হয় হীরক

সে কালবিহীন সমন্বয়ে তুমি অনায়াস মণিকর্ণিকায়

শেষ বিচার করেছ প্রিয় বন্ধুর

তার জন্মগত শেষকৃত্যে অধিকার

অন্তহীন দ্বেষ পেরিয়েও তুমি একইরকম নির্বিকার ।


এরকমই হওয়ার ছিল, আমায় অনায়াসে  বলেছ তুমি

চলে যাওয়ার কোনও বিশেষ মূহুর্ত্ত হয় না

যে কোনও লহমায় সহজে ফিরে আসা যায়

অনামিকায় ধারণ করি স্মৃতিবিজড়িত হলুদ পাথর

জানি, এ সবই অপাংক্তেয়, তাও বলি

এর পরের বার আমাকে জানিও

যে মোহসপ্তমীতে রেখেছ সুর

আমায় নিও নভোমধ্যে

আমারই শেষকৃত্য

আমার জন্মগত অধিকার

 

শেষ স্বপ্নের যবনিকাপতন, মনে হয়, এখনি হওয়ার কথা ছিল, চলো রাত হয়

ত্রিভুজ মুদ্রায় তুমি ধরেছিলে গোলাপী আঁচল

মুদ্রা গভীর গহ্বরে শান্ত যন্ত্রনা নিয়ে

তোমায় কেঊ দেখতে পায় নি, উজ্জ্বল মঞ্চের সাঁঝবেলায়

তারপরেও তুমি চেয়েছিলে অশান্ত ঈশান কোনে সিঁদুরে সঙ্কেত

নীল বেনারসী পড়ে মণিকর্ণিকায়












তোমার আশায় কালো ধোঁয়া আর মৃতের সুঘ্রাণ

দশ্বাশ্বমেধের  সন্ধ্যারতি, তুমি , সুচিত্রা

আমি এক অদৃশ্য ভেলায়, দেয়াল পেড়িয়ে দুইপাশে

নীল আর গোলাপী বেনারসী পড়ে, তুমি

সাগর পেরিয়ে সত্যবতী সেদিন পা ধুচ্ছিল,

ভাঙা নৌকায়, আমি

Canto 1: Scene 15

Friday, 8 March 2024

১৪. যক্ষ্মীবিভঙ্গ

 বিনা কারণে যখন কোনো কিছুই হয়না, তখন হেতু অবান্তর প্রথাবিহীন এক সৎসঙ্গ পরিচালনায়, আমি রচনা করেছি এক অজানা বাস্তব সে জীবন জানে না অহেতুক সম্পর্ক, তার নেই কোনো অর্থদায় তা সত্ত্বেও সে আটকায় রিহ্যাবে, দরজায় করে করাঘাত ত্যাগ করি সকল অবিদ্যা, বা অজ্ঞতার অভিনয়, সে জানে, এ জীবন পেরিয়ে, সে পাবে বেঁচে থাকার অধিকার তার অঙ্ক সে নিজেই করে, শিরার মধ্যে ভয়ের ইজ্ঞেকশন   এ নেশা তার কঠিন অভ্যাস, সে পেয়েছে মৃত্যুর সন্ধান

সে আভাস তাকে ডাকে, দুর্নিবার এক মোহ উত্তেজনায় যৌনতার আরক তার মজ্জাবিস্তারে, সে জানে বিছানার গহীন প্রার্থনা ভালবাসা তার কাছে দোটানারই নামান্তর, তার পরেও সে একবগ্গা হরিণ   সে ধায় প্রেমে, সে পেয়েছে নারীর অন্তরের অনন্ত অমৃত

অষ্টাদশ  অক্ষৌহিনী  নারায়নী সেনার লোভ সে করেছিল ত্যাগ একাই করবে বিশ্বশাসন, এমনই তার একান্ত অভিপ্রায় যক্ষ্মপুরী তাঁরই মোহকল্পনা, মৃত্যুদায় সে রাখেনি অহেতুক মরে গেলে যাব, এ জীবনে কীই বা রাখা থাকে, প্রেম বিনা অসীম বোধ তার সুপ্ত চেতনায়, সে চলে যাবে, এ সুখের সংসার ছেড়ে, কোনও অজানা শহুরে অরণ্যে সে সম্পত্তির আইনে লেখা আছে তারই নাম, আয়াসে সে পরিত্যাগ  করে সম্পর্কের বাঁধন  

 

অনাদিকালের রূদ্ধসঙ্গীত তোমার যক্ষ্মীবিভঙ্গে

তুমি সম্যক চেয়েছিলে মদিরা, নিশিরাতে, বিপদের সম্মোহনে

নীলসর্প বিস্তারে তোমায় সাবধান করিয়াছে কালাশৌচ

সাধনভঙ্গিমায় সে সকল অনায়াসে করেছ অস্বীকার

প্রিয়তমা, হৃদয় জানিও, লোভ নয়

জানিও প্রেমে, কহিও আমারে, তোমা বিনা এ সংসার অনর্থ

যাইতে দিও না আমারে, চারিদিকে মিথ্যা অহংকার

ফাঁদ পাতে যাদব জাতি, এ বংশ মহাভারতের আখ্যান

কখন আসিবে জরা, কহিবে কৃষ্ণে,

সময় হইয়াছে, আপনি শরবিদ্ধ

সে মৃত্যু আনিতে কি চাও, ত্বরায় ?

 

গমন করিবে, অনন্ত গহনে, এ ঈপ্সা কী অসঙ্গত

জানিয়াছ কী, প্রথা বর্হিভূত, এ তন্ত্রসাধনায়, ঘোর অনিশ্চয়

তবে কহ, কী ক্ষোভ রাখি, এ অহেতুক বারতা

কী রঙ্গে চাহ, নেশাবিস্তারে, জাগে কঠিন শমন ?



 






তোমারে জানি, তুমি অস্থির ভারী, ভয় পাও নাই রাত্রিতে

সে অহং তোমারি ঐশ্বর্য্য, পরিও অলংকার

ধারণ করিও, হীরা মরকত, যাচিও না গজদন্ত

এ কঠিন মৃতকাল

এ কালে রচেনা নীতিবাসর

অনীতা তুমি, আমায় কহিও, আরও একবার

প্রেম করি তব, লোভ নাহি, ভয় নাহি মোর মনে

সে আমি জ্ঞাত, জানি তোমারে, তুমি আমাতে প্রীত

 

এ মৃত্যু, অতি নিত্য জানি, তাও চাহি আমি

অমোঘ সত্যের এই মহামন্ত্র আমি নিয়ত মানি

আমাতেই ভবসংসার, নয় দরোজা, নয় কুঠি

ষড়্রিপু আমাতেই বাস্, আমিই মহাপাচক

মহাপাতক এই ধর্মপুরে আমিই অধিবাস

আমারই হয় অন্ত্যেষ্টি, আমিই সকল নাশ

আমারেই জানিয়া যক্ষ্মী মহামন্ত্র জপে

যক্ষ্মীর লাগি আমিই সকল প্রেতযোনি মতে

 

সুচিত্রা, পৃথা, ইরা, বা অবন্তিকা,

যে নামেই তোমায় ডাকি না কেন

তুমি সাড়া দাওআমিবলে

Canto 1: Scene 14

Monday, 4 March 2024

১৩. বিসমিল্লার সুর

 

একথা সেকথার পর, তোমার অল্প নেশা হয় সেদিন, ইরা

 অনন্ত আবেশ ছিল তোমার চোখে, স্বৈরতন্ত্রী জেদ

কিছুতেই পা টলবে না, যতই বলুক অন্যকথা শরীর

রাতের পার্টি বড় বহিরঙ্গ, না হয়  নাই বা গেলে

যদিও সেখানেই দেখা হয়েছিল, বিসমিল্লার সুরে








চিনতে পারোনি অবশ্যই, ভেবেছিলে সুইসাইড প্যাক্ট

আমারও না চেনার কথা, তাও হাত না ধরে পারিনি

গাড়ি যখন পার্ক স্ট্রীট, তুমি জড়ানো গলায় জন্মান্তর

আরো কিছু দূরে আমার বাড়ি, তোমার তাড়াতাড়ি

হয়ত বা ভালবাসা, বা আমারই নামান্তর



 








তোমায় নিশ্চিন্ত দেখে আমি বলেছি অনর্থক কাহিনী

যদিও তোমার শোনার অভিনয়ে, তখন রাত হয়ে গেছে

বাড়ি ফিরে তুমি আর বসতে চাওনি

আমায় বললে, একটু ধরো, আমি চেঞ্জ করে আসি

আমার অল্প অস্বস্তি, আমি নেশা করিনি

কথা দিয়েছি, তোমায় বিছানায় শুইয়ে, আমি চলে আসি

তুমি শুনবে না, শুধু বলছো আমায় ধরো

আমি জানি তুমি সুরক্ষিতা

তোমার রাত হয়েছে

আমার ফেরার পথ নেই

Canto 1: scene 13

১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...