স্বল্প পরিচয়ে তুমি আমায় ঠিকই চিনেছিলে, আমি ঠিক সেরকম নই, যেমন তুমি দেখো । চিনেছিলে আমায় পলাপাথরের বর্ণিমায়, করতলে লিখে রেখেছিলে সঙ্গত অভিমান সঙ্কেত । সাত জন্ম পেরিয়ে এই হঠাৎ আলাপ, এর অভিঘাত সামান্য ধীর লয়ে অস্থির করেছিল আমাদের । প্রতিদিনের মত রাতের ট্যাক্সিতে বাড়ি ফিরতে ফিরতে, আমার কথাই ভাবছিলে তুমি। আমি কী ভাবছিলাম, এ মীমাংসা অতি সহজ ।
তুমি মধ্যমায় স্পর্শ করেছিলে
আমার মারক ।
তত্ত্ব আলোচনায় নিতান্ত মনোযোগী না হয়েও,
তুমি বলেছিলে এদিন আমরা দূরে চলে যাই । জন্মান্তরের
কোনও স্মৃতি, ভ্যাম্পায়ার কক্ষের চিরপরিচিত
কাহিনী ।
কে সে অজানা শাহেনশাহ, যার
ডাক শোনো আত্মা-নির্বাণে । কাকে
চাও অঙ্গ- সঙ্গমে,
তুমি জানো ।
তোমায় চেনে না এই ঘর,
এই অজানা পুরুষ, নির্বাক
তোমার আমন্ত্রনে ।
সায়ম্
বীজকোষে তোমার আগম
বহুকাল আগে,
এই জেনেসিস পেরিয়ে
তারও আগের চতুর্দ্দশীতে,
তুমি লিখেছিলে আকাশপত্র
কোথাও মরণ কামনা নিহিত
থাকে তোমার শব্দসন্ধানে ।
তুমি সহজেই লিখে ফেলতে
পারো অনির্বাণ বিরহ
রক্তসমুদ্র পেরিয়ে তোমার
পূজার অর্ঘ্য এনেছিলাম আমি
সযত্নে সাজিয়েছিলাম তোমায়,
নীল বাঁশির সুরে ।
তাতে মন ভোলেনি তোমার,
এই পৃথিবীতে এখনো অনেক
আলাপন
তার সংখ্যা নির্ধারণ করেছিলে
তুমি,
সাংখ্যমতে আমরা চিরবিবাহিত,
সে তুমি যতই না মানো ।
রাজী হলে দেখা কোরো
গতকাল,
অমাবস্যা ছিল
তুমি পাষাণী,
আমায় বললে আজ ।
কথায় কথায় চন্দ্রাহত
আমি তক্ষ্মশিলায় সম্মতি
শাণিত তৃতীয়া ।
পৃথা,
তুমি হীরি চেয়েছিলে নাভীমূলে
সে হীর যদিও গোলাপী
পায়ের পাতায় শীত ছিল সে
রাতে
যখন তুমি চাইলে আমায় ।
আমি অজন্তায় তোমায় চেয়েছি
খাজুরাহো জুড়ে শুধুই ময়াল
তুমি চোখের তারায় আঁকলে
রূদ্ধসঙ্গীত
আমি,
আস্তে, সন্তর্পনে
জড়াই তোমার কোমর
তুমি শান্ত,
শুয়ে নিয়েছ আমায় ।
নির্জন সমস্ত কাহিনীর
আলোছায়ায়
সর্সর্
শব্দে গাছের পাতায় কে চলে,
মাটি নিজেই জন্মান্তরে
সেধেছে ভয়াল সংবেদন ।
পার্থিব বেদনারও আরও অনেক
পরে
আমার দিনযাপনে শুধুই ইচ্ছে
সহমর্মী,
আমি জানি কি অপূর্ব দ্যোতনায়
বৃক্ষরাজি আকাশে হাত বাড়ায়
।
এ জন্মের মুক্তি অভিন্নহৃদয়
দায় ফুরোবার পরেও আমি
বলেছি সুপ্রভাত,
সর্পিল অতল রেখাপাত নিয়ে
আমি লিখেছি রক্তরাত |
হৃদয়ের কাঁটাতারের অদ্ভূত
সমন্বয়
সে প্রথা ধার ধারে না
মেকী বাস্তবের
সে নিয়ম যথার্থই সমান্তরাল
পরিচয়ে জেনো,
আমি অনন্ত ময়াল ।
Canto 1: Scene 17
