সাদা
অপরাজিতার চন্দ্রাতপে তোমার দীর্ঘশ্বাস
লোহিতকণিকায়
অযথা আলোড়নে
তুমি
সুগ্নন্ধী স্পর্শ করেছ কণিষ্ঠায়
সুরসরগমের
নিভৃত সবিনয়ে,
আমাকেই করেছ বিরাগভাজন ।
যত
অভিমান,
করেছ সমর্পন,
অশরীরি
আঁচলে জড়িয়েছ আমার স্মৃতি
বারবার
চলে যাওয়ার অনাদায়ে
তোমায়
মনে রেখে আমিও সন্তরণ
বহুবার
পেরিয়েছি এ সাগর পূর্ণিমায়
মৃত্যুর
পরেও যে মৃত্যু
সেই অগম অহমিকায় ।
আমি
গেয়েছি তোমারি গান
স্মৃতিসুধায়, সাধক মণিকোঠায়
আমি গেয়েছি তোমার গান ।
স্বৈরী
স্বতঃ,
অয়স্ আনল, মৃণালিনী,
সূর্য বিম্বাধর,
স্তিমিত
অস্তি,
অর্থী অতল, আরও গভীরে, কার্ষ্ণ কুম্ভীপাক
পাকদণ্ডী
বিস্ময়,
শিরি তীক্ষ্ণ, রুধির, সুধীর স্বয়ম, মধ্যমা ঊর্ধ্বাগতি
আসিছ আলয়, যমালয়, প্রেয়সী, শাণিত শায়িতা ।
শুদ্ধ
ক্রোধ,
বিরাগ তনয়া, হানিছ গরল ; ত্বমঃ, মৃতা বিস্তৃতি
অর্থী
অতল, গহ্বর, গভর, আরও, আরও গভীরে, কার্ষ্ণ কুম্ভীপাক
শিরি
তীক্ষ্ণ,
শিরি মধ্যমা, শিরি গাঢ়, সহিয়াছি অলীক,
আসিতে
সাধ, অসিতে রাগ, আসিতে দাও, অসিতে চাও
কুমারী
শুদ্ধা,
রাগ ভৈরব, ভৈরবী, অহম্ গাহি
জঙঘা সধবা, প্রণয় তৃষ্ণা, শোণিত ধারা চাহি ।
আসিও
সকাশে,
ইত্য অবকাশে, অক্ষিপাত অহ,
প্রচণ্ড
অস্তি,
সুবিচার সম, মৃণালিনী, চন্দ্র ওষ্ঠাধর,
অস্ত
কালে,
চান্দ্রেয়ী চাহিল, নিঃশব্দে
হৃদি
সঙ্গীত,
গাহিল,
অব্যক্ত ।
নীলাভ
অঙ্কিত নক্ষত্রের বিদিশায়,
তুমি সধবা হতে চেয়েছিলে ইরা। তোমায় অনেক বোঝালো পাড়াপড়শী, জেদ তোমার, আমায় যে পাও নি । এরা কারা, আরও অনেকবার আমায় বলেছো, চলো দূরে কোথাও থাকি । আমি ভরসন্ধ্যায় অনেকের ভিড়ে, তোমায় এঁকেছি, অযান্ত্রিকে । পদ্মপাতায় জল, তাও ধরে রাখি রঙের
তুলিতে, যদি তুমি দেখো । সবাইকে পেরিয়ে, পদ্মা, ইরাবতী, আমি আর
তুমি, অনন্ত নক্ষত্রবীথি ।
এ
কাল-বাসরে নক্ষত্র পূজিতা তুমি, তোমার আশঙ্কায় পদ্মায়
নামে ধ্বস, পলিমাটির বলিরেখায় তুমিই এঁকে দাও রক্তচন্দন ।
অনন্তনাগ
গ্রস্তা,
বাগদত্তা তুমি, ভাবিয়াছ কী অপরিমেয় প্রশস্তি,
তাঁহার মনন অভ্যন্তরে ? জানিয়াছ কী ভরা কোটালের
দীর্ঘশ্বাস, অলস নৌকাবিহারে ? অতনু
অনিকেত আমি, আমি জানিয়াছি তোমারে ।
বিমর্ষ
সাগরপারে মণিভস্ম দিয়ে সাজিয়েছি তোমার নাভীপদ্ম । তোমায় এঁকেছি
কাঁচা সোনার রঙে,
আর তামাটে সূর্য্যের প্রজ্জলিত পাথরে । তুমি নাগরী, গাইয়ছি তোমারি গান,
শোক সঙ্গীতে । জেনো তুমি নিশ্চিত, এ মায়ানগরী ছাড়ি, এ চিতাভস্ম উড়ি, এ শ্মশান গড়ি, করিয়াছি তোমারি পূজা অনন্ত বীক্ষিত
। রাখিয়াছি তোমারেই হৃদি, যদি বা বাঁচিতে পারি ।
Canto 1: Scene 5