তোমার অন্তরীণতার নির্মোক আমায় বিরল করে । সাঙ্গীতিক রূপালীতে তুমি আমায় ডাকো , তোমার অলিখ নির্বাসনে মধুরিত যে হৃদয় , তাহার অবয়বে যেন এক প্রাচীন বৃক্ষ বনান্তরী হয় । আমি তোমার প্রাকারের সীমানায় ছবি আঁকি , তোমায় না পেয়ে হারিয়ে যাই আদিম অন্ধকারে, আস্বাদ করি আশীবিষচূর্ণ, চোখের তারায় ভেসে ওঠে জ্যোৎস্না ।
আমায় হত্যা করেছে তোমার বিরহ, আমি প্রাণভয়ে করিনি পলায়ন । অন্তরায় সুর বেঁধেছি অশনির, তার পরেও বারবার ফিরে আসি তোমার শেষ সাবধানবাণীতে ।
এসো না আমার ঘরে, এখানে রাখা আছে আজন্ম প্রতিশোধ । এ ঘরে রাত্রিবাস করে না কোনো সাধু ।
চলে যাও দূরে , আরো দূরে , যেখানে আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল ।
তোমায় সূর্য্যমুখীর আলোয় দেখেছি প্রতিনিয়ত । জানি তুমি থাকবে না কিছুতেই । তার পরেও, তোমার চলে যাওয়ার পথে আমি বিছিয়ে দিয়েছি মখ্মলের গালিচা । হয়ত বা অনর্থক, তাও তোমার পথ চেয়ে থাকি ।
সন্ধ্যাবেলায়
রাগ
বিহাগে লেখা
কিছু শব্দ
আর কালো নদীর তীরে
পুরনো শিবমন্দির
অস্পষ্ট স্মৃতিচিহ্ন, সেদিন সকালের
মত ।
বাঁশীর সুর
ভেসে
আসে,
এদিনের
কাহিনী আপন মনেই ফুরোয়
শেষ নেই এই
অবিরাম যাওয়া-
আসার ,
মেঘ বৃষ্টির
নামান্তর
আরো দূরে কোনও
আন্তরিক
মজলিস
।
এ বছর হয়ত
আর যাওয়া হবে না বাউল মেলায়
তুমি আসোনি
, তোমার চিঠি পাইনি এখনো ।
বৃক্ষ তাঁর
নিজস্ব সুচিন্তনে
নদীর বুকে
আলোছায়া
তুমি আর আমি
স্বর্ণযুগের
প্রেমিক প্রেমিকা
আমাদের রাত
শেষ হয়
নিঃসীম দিনযাপন
।
অন্য কথায় তুমি হঠাৎ
যেন অচেনা
আনমনে ভাবছ
আজ
এত একা
আকাশগঙ্গায় তোমার রূপ রঙ আলো
তার ও দিনরাত
অযথা
,
এ সময় জানে
তোমার গহীন
অস্মিতা ।
নির্জন তোমার নূপুরে
রাতির
সেঁজুতি
সেদিন তুমি
অস্পষ্ট জলছবি
তোমায় দেখতে
চেয়ে অকারণ
পথচলা
।
তুমি তাও জেনেছিলে,
হিমশীতল রাতে
তুমি তাও জেনেছিলে
আমাকেই অজানা
কোনও সুরে ।
Canto 1: Scene 10

No comments:
Post a Comment