Showing posts with label অবিনাশ. Show all posts
Showing posts with label অবিনাশ. Show all posts

Monday, 4 March 2024

১৩. কাজল কথা

একথা সেকথার পর, তোমার অল্প নেশা হয় সেদিন, ইরা

অদ্ভূত আবেশ ছিল তোমার চোখে, স্বৈরতন্ত্রী জেদ

স্টিরিওতে গজল শুনতে চেয়েছিলে

ঘুমচোখে আমার কাঁধে মাথা রেখেছিলে

সুচিত্রার পাশ থেকে আমায় ডেকে এনেছিলে ।

চিনতে পারোনি অবশ্যই, ভেবেছিলে সুইসাইড প্যাক্ট

আমারও না চেনার কথা, তাও হাত না ধরে পারিনি

গাড়ি যখন পার্ক স্ট্রীট, তুমি জড়ানো গলায় জন্মান্তর,

আরো কিছু দূরে আমার বাড়ি, তোমার তাড়াতাড়ি

হয়ত বা ভালবাসা, বা আমারই নামান্তর ।

 

পা টলবে না কিছুতেই, যতই অন্তরঙ্গ তোমার দীর্ঘশ্বাস

রাতের  আসর  একান্তই বহিরঙ্গ, না হয় নাই বা গেলে

যদিও সেখানেই দেখা হয়েছিল, বিরহের সুরে ।

অনেক রাত সেদিন , 

বলেছিলাম আমি আছি , 

ত্বমাগায়ী সন্তরিতায় তুমি মৃদায়িনী

নিশিপদ্ম সায়ন্তীতে তুমি হৃদয় বন্দিনী ।

গজলের অধীরতায় 

কাজলে কাজলে মেঘমল্লার

তোমার নিশ্চিন্ত সমর্পনে,

একান্ত বিরহতায়

অধরে অন্তরে তন্দ্রিমতা ,  

তোমার রাত হয়েছে

আমার ফেরার পথ নেই ।


Canto 1: Scene 13


Saturday, 17 February 2024

৭. মধুশালা

যে পথে গেলে আমায় পাবে, সে পথ তোমার সবসময় অচেনা মনে হয় ।  গ্যাসলাইটের ঘোলাটে আলোয় খিদিরপুরে তুমি আমায় দেখেছিলে, অনামী কোনো মধুশালায় । তুমি নিয়ন আলোয় সেজে উঠেছো, রাতের পোষাকে । তোমায় দেখে আমি চোখ ফেরাতে চেয়েও, দৃষ্টি ফেরাতে পারিনি । আকন্ঠ তোমার বিষ আমায় পরিপূর্ণ করেছে । যেমন নৌকার গায়ে নদীর ছল্‌ছল্‌, তেমন তুমি নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলে আমায় । ডুবে গেলে যাবে, এখন আমায় ভুলে থাকো ।

আমায় জড়িয়েছিলে ওড়নায়, অজানা কোনও নামে ডেকেছিলে আমায় । আমি সাড়া দিতে চেয়েও পারিনি ।  সে সময় যখন অতিক্রান্ত, তুমি হাত বাড়িয়েছ । তোমার শরীরে ভুলিনি সেদিন, শুধু মদের দাম চুকিয়ে চলে এসেছি, যাতে কেউ চিনতে না পারে ।

তার পরে তোমায় যেদিন দেখি, তুমি কোথাও যাচ্ছ । আমায় দেখে না চেনার অভিনয় করলে, যদিও আমি ঠিকই জেনেছি তোমায় ।

 

পার্থিব তন্দ্রিম বর্ণিমা, কুয়াশা অস্থির রতি, তামসিতা তোমার রাগিনী

অমার্জিত সম, ত্বমঃ, তুহ অতি শৈব্যা যেবতি, অপারগ

অর্থানর্থ ভাববার সময়, চেয়ে নিয়ো আমার অনন্ত শোণিত ।

অর্চনা দিও, আর অঙ্গীকার, বৃথা পাপ সংসর্গ ।

চন্দ্রচূড়া মানসী, অক্ষিপাতে চেও শাপিত ত্বরায় ।

সাঁঝ এলো বলে, সাধভক্ষণের সময় ঘনায় ।

 

সঞ্চার সন্ধান রহিত যে জন্মকথা, তা একান্তই তোমার আমার ।  আমরা কোনদিনই ঠিক বুঝে উঠতে পারি না, এই উৎসবের ভিড়ে, আমাদের আলাপচারিতায়, ঈশান কোনে মেঘ জমে । সে অস্তরাগ বুকে নিয়ে, সুচিত্রা তুমি মোহিত করেছ আমায়, জলপথে সন্তরিতা হরিণীর ন্যয় । পেয়েছি আমি তোমায় অস্ফুট মূর্চ্ছনায়, ইতস্তত মৃতদেহের ভিড়ে, যেখানে শুধু তুমিই পূজিতা, মৃত্তিকা রূপে । কোনও এক রাতে, শ্মশানে, মৃত্যুপুরীতে, আমি অপেক্ষা করেছি তোমার প্রার্থনায় । তার আগে আকন্ঠ গ্রহণ করেছি রুধির । সে সুরা পানে, মোহমুগ্ধ আমি, চেয়েছি তোমায়, রজনীগন্ধায়, আর সন্ধ্যাপ্রদীপে ।

 

সুচিত্রা, তুমি আমায় জানাতে পারতে

তুমি অভিনয় একটুও পারো না ।

যা কিছু বলেছ, তা মিথ্যা নয়

যা কিছু বলোনি, তা সত্যি নয় ।

 

আমি জেনেছি তোমায়, শেষ প্রদীপের আলোয়

আমি জেনেছি জন্মদিনে, একান্ত আপনে

তোমার অন্তহীন মৃত্যুতে, আমার নৈশ বাসরে ।

Canto 1: Scene 7 





Thursday, 15 February 2024

৫. সাদা অপরাজিতা

সাদা অপরাজিতার চন্দ্রাতপে তোমার দীর্ঘশ্বাস

লোহিতকণিকায় অযথা আলোড়নে

তুমি সুগ্নন্ধী  স্পর্শ করেছ কণিষ্ঠায়

সুরসরগমের নিভৃত সবিনয়ে,

আমাকেই করেছ বিরাগভাজন ।

 

যত অভিমান, করেছ সমর্পন,

অশরীরি আঁচলে জড়িয়েছ আমার স্মৃতি

বারবার চলে যাওয়ার অনাদায়ে

তোমায় মনে রেখে আমিও সন্তরণ

বহুবার পেরিয়েছি এ সাগর পূর্ণিমায়

মৃত্যুর পরেও যে মৃত্যু

সেই অগম অহমিকায় ।

 

আমি গেয়েছি তোমারি গান

স্মৃতিসুধায়, সাধক মণিকোঠায়

আমি গেয়েছি তোমার গান ।

 

স্বৈরী স্বতঃ, তামস সাগ্নিতা, মৃণালিনী, সূর্য বিম্বাধর,

স্তিমিত অস্তি, অর্থী অতল, আরও গভীরে, কার্ষ্ণ সর্পরাগ

পাকদণ্ডী বিস্ময়, শিরি তীক্ষ্ণ, রুধির, সুধীর স্বয়ম, মধ্যমা ঊর্ধ্বাগতি

আসিছ আলয়, যমালয়, প্রেয়সী, শাণিত শায়িতা ।

 

শুদ্ধ ক্রোধ, বিরাগ তনয়া, হানিছ গরল ; ত্বমঃ, মৃতা বিস্তৃতি

অর্থী অতল, অন্তর, গভর,  আরও, আরও গভীরে, 

শিরি তীক্ষ্ণ, শিরি মধ্যমা, শিরি গাঢ়, সহিয়াছি অলীক,

আসিতে সাধ, অসিতে রাগ, আসিতে দাও, অসিতে চাও

সায়নী শুদ্ধা, রাগ ভৈরব, ভৈরবী, অহম্‌ গাহি

মধুরা সধবা, প্রণয় তৃষ্ণা, প্রেম রাখি হারায়ে  ।

 

আসিও সকাশে, ইত্য অবকাশে, অক্ষিপাত অহ,

প্রচণ্ড অস্তি, সুচন্দ্রা সম,  মৃণালিনী, চন্দ্র  ওষ্ঠাধর,

অস্ত কালে, চান্দ্রেয়ী চাহিল, নিঃশব্দে

হৃদি সঙ্গীত, গাহিল,

অব্যক্ত ।

 

নীলাভ অঙ্কিত নক্ষত্রের বিদিশায়, তুমি সধবা হতে চেয়েছিলে ইরা।  তোমায় অনেক বোঝালো পাড়াপড়শী,  জেদ তোমার, আমায় যে পাও নি । এরা কারা, আরও অনেকবার আমায় বলেছো, চলো দূরে কোথাও থাকি । আমি ভরসন্ধ্যায় অনেকের ভিড়ে, তোমায় এঁকেছি, অযান্ত্রিকে । পদ্মপাতায় জল, তাও ধরে রাখি রঙের তুলিতে, যদি তুমি দেখো ।  সবাইকে পেরিয়ে, পদ্মা, ইরাবতী, আমি আর তুমি, অনন্ত নক্ষত্রবীথি । 

এ কাল-বাসরে নক্ষত্র পূজিতা তুমি, তোমার আশঙ্কায় পদ্মায় নামে ধ্বস, পলিমাটির বলিরেখায় তুমিই এঁকে দাও রক্তচন্দন ।

অনন্তনাগ গ্রস্তা, বাগদত্তা তুমি, ভাবিয়াছ কী অপরিমেয় প্রশস্তি, তাঁহার মনন অভ্যন্তরে ? জানিয়াছ কী ভরা কোটালের দীর্ঘশ্বাস, অলস নৌকাবিহারে ? অতনু অনিকেত আমি, আমি জানিয়াছি তোমারে ।

বিমর্ষ সাগরপারে মণিভস্ম দিয়ে সাজিয়েছি তোমার নাভীপদ্ম । তোমায় এঁকেছি কাঁচা সোনার রঙে, আর তামাটে সূর্য্যের প্রজ্জলিত পাথরে । তুমি নাগরী, গাইয়ছি তোমারি গান, শোক সঙ্গীতে ।  জেনো তুমি নিশ্চিত, এ মায়ানগরী ছাড়ি, এ চিতাভস্ম উড়ি, এ শ্মশান গড়ি, করিয়াছি তোমারি পূজা অনন্ত বীক্ষিত । রাখিয়াছি তোমারেই হৃদি, যদি বা ফিরিতে পারি ।

Canto 1: Scene 5






Tuesday, 13 February 2024

৩. রঙ্কিণী

সহজ মৃত্যু যাচিয়া পথিক, সহজিয়া মোহে মরিয়া

সুন্দর গড়ে সারি সারি লাশ , সবে হরিবোল কহিয়া

সুন্দরি নদী পারে দক্ষিণ রায়

নারায়ন সেথায় যমের দুয়ারে

নারী কহে পূজি দেবতারে

লেখা আছে টোটেমের গায়ে

এ রঙ্কিণী, এ জানে সকল মায়া,

এ পথে এসো না পথিক

এ পথ তোমার নয় ।

 

সে বনাঞ্চল শীতল নির্বিকার

বৃক্ষের নেই কোনও দায় কথা বাড়াবার ,

সে রমণী জানে না শহুরে অভিনয়

তার নেই কোনও দায় প্রাণে বাঁচাবার ।

সে মেয়ে শরীর চাহে তার ক্ষুধার প্রয়োজনে

প্রেমিকের কাছে সে আসে অকারণে

সে রাখেনি কোনও অবান্তর আবরণ

তার শরীর জানে নাগিনীর কঠিন নিয়ম

এ নিয়মের নাই অহেতুক ব্যতিক্রম ।

 

তার চোখ ধক্‌ধক্‌ করে জ্বলে

রাত হয়েছে বনান্তরে

বৃক্ষ তারে ডাকে

সে কী এনেছে করোটির উপঢৌকন ।

এ প্রাচীন প্রথা

তার শরীর জানে নাগিনীর কঠিন নিয়ম

এ নিয়মের নাই অহেতুক ব্যতিক্রম ।

 

শণি আসিয়াছে বিষ্ণুপুরে

সময়ের অধিকার শোক মাদকে

কেহ পায় সময় অচিরেই

কেহ মরিয়াছে পাষানে হারিয়া

কেহ বা কিনিয়াছে জীবনের দায় ।

এ পথ টলোমলো, এ পথে মায়াবিনী ডাকে দেবতারে

তুমি ভুলিয়াছ ভালবাসা ,

তুমি বাঁচিতে চাহিয়াছ

ফিরিয়া আসিয়াছ আরো এক বার

নেশাগ্রস্তের ন্যায় ।

এ পথে আছে অঘোর বৃক্ষ

মায়া কানন আর দক্ষিণ রায় ।

এ স্থানে শুধুই ভগ্নতরীর কঙ্কাল

এখানে বিরাজ করে সাগর ময়াল ।

 

রত্ন রাজি উদ্বেলিত এ পরে থরে থরে

এ পাতালে শুধুই অভিশাপ ।

সে রঙ্কিনী , তাহার বিরহে আসিয়াছে বিকাল

এ স্থানে শুধুই ভগ্নতরীর কঙ্কাল

এখানে বিরাজ করে সাগর ময়াল ।

এ সুন্দরবন, এ পথে আসে না পথিক

এ পথ  তোমার নয় ।

Canto 1: Scene 3

১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...