Tuesday, 13 February 2024

৩. রঙ্কিণী

সহজ মৃত্যু যাচিয়া পথিক, সহজিয়া মোহে মরিয়া

সুন্দর গড়ে সারি সারি লাশ , সবে হরিবোল কহিয়া

সুন্দরি নদী পারে দক্ষিণ রায়

নারায়ন সেথায় যমের দুয়ারে

নারী কহে পূজি দেবতারে

লেখা আছে টোটেমের গায়ে

এ রঙ্কিণী, এ জানে সকল মায়া,

এ পথে এসো না পথিক

এ পথ তোমার নয় ।

 

সে বনাঞ্চল শীতল নির্বিকার

বৃক্ষের নেই কোনও দায় কথা বাড়াবার ,

সে রমণী জানে না শহুরে অভিনয়

তার নেই কোনও দায় প্রাণে বাঁচাবার ।

সে মেয়ে শরীর চাহে তার ক্ষুধার প্রয়োজনে

প্রেমিকের কাছে সে আসে অকারণে

সে রাখেনি কোনও অবান্তর আবরণ

তার শরীর জানে নাগিনীর কঠিন নিয়ম

এ নিয়মের নাই অহেতুক ব্যতিক্রম ।

 

তার চোখ ধক্‌ধক্‌ করে জ্বলে

রাত হয়েছে বনান্তরে

বৃক্ষ তারে ডাকে

সে কী এনেছে করোটির উপঢৌকন ।

এ প্রাচীন প্রথা

তার শরীর জানে নাগিনীর কঠিন নিয়ম

এ নিয়মের নাই অহেতুক ব্যতিক্রম ।

 

শণি আসিয়াছে বিষ্ণুপুরে

সময়ের অধিকার শোক মাদকে

কেহ পায় সময় অচিরেই

কেহ মরিয়াছে পাষানে হারিয়া

কেহ বা কিনিয়াছে জীবনের দায় ।

এ পথ টলোমলো, এ পথে মায়াবিনী ডাকে দেবতারে

তুমি ভুলিয়াছ ভালবাসা ,

তুমি বাঁচিতে চাহিয়াছ

ফিরিয়া আসিয়াছ আরো এক বার

নেশাগ্রস্তের ন্যায় ।

এ পথে আছে অঘোর বৃক্ষ

মায়া কানন আর দক্ষিণ রায় ।

এ স্থানে শুধুই ভগ্নতরীর কঙ্কাল

এখানে বিরাজ করে সাগর ময়াল ।

 

রত্ন রাজি উদ্বেলিত এ পরে থরে থরে

এ পাতালে শুধুই অভিশাপ ।

সে রঙ্কিনী , তাহার বিরহে আসিয়াছে বিকাল

এ স্থানে শুধুই ভগ্নতরীর কঙ্কাল

এখানে বিরাজ করে সাগর ময়াল ।

এ সুন্দরবন, এ পথে আসে না পথিক

এ পথ  তোমার নয় ।

Canto 1: Scene 3

২.বৃক্ষপুরাণ

 
তোমায় বলেছিলাম আগামী কাল দেখা করব, তা হয়ত হবে না।  অন্তরঙ্গ কিছু কারণ দর্শাতে পারি, কিন্তু তুমি হয়ত জানতে চাও না।  তোমার ভাল লাগছেনা এই শহর, চারপাশে এত মুখের মিছিল। যদিও এই মিছিলেই আমরা সবাই, আমাদেরই ঘর, আমরাই কথা বলি।  আমাকেই দেখো, শীতের ভোরবেলায়।
 
বড় গাছ তোমার চিরকালই ভাল লাগে।
অনেকবার ছায়ায় হারিয়ে যাওয়া যায় ।
কল্পনা করো দোলপূর্নিমায়, সেই যে বীরভূমে,
গাড়িটা যেখানে হঠাৎ থামে, পথচলতি মেয়েদের ঠিকানা চেয়ে,
সেখানে সেই একা গাছ ।
 
সে কিন্তু তোমায় তখন ডাকেনি ।
পাতা ঝড়াবার সময়
গাছেরা হয়ত আরও কোনও নিমগ্ন ধ্যান ;
তাও তুমি মানোনি
অঙ্গুলিকায় জড়ানো সোনার ব্রেসলেট,
অবলীলায় গাছের পাশে রেখেছিলে,
আর বলেছিলে মধুমন্তী কে
তোমার সাথে হয়ত দেখা হবে না আর কোনদিন ।
 
তুমিও  যেমন, মধুমন্তী মুখ ঘুরিয়ে বলেছিল,
এই জড়োয়া গয়নায় শুধু গাছের অধিকার
বাবা না বললে, আমিও কী জানি আর ।
 
আমি অদূরেই ছিলাম
বীরভূমের অশোকতরু গ্রামে
আরও কোন নিমগ্ন ধ্যানে ।
তোমায় ডেকেছিলাম আমিই,
তুমি তখন বোঝোনি,
আমি কিন্তু জানি,
রাত পেরোতেই আবার আসবে তুমি
ফিরে যাওয়ার বৃত্তে ।
 
সেবার হয়ত সেখানে দাঁড়াবার কথা ছিল না,
তাও তোমার  জেদ ,
মধুমন্তী সেবার ছিল না
জল আনতে এঁকেছিল গাছপুরাণ ।
 
যে গাছে শুধুই অজাগর
তুমি বলেছিলে কাঠগোলাপ ।
 
কোনও এক নতুন নামে ডাকার সেই পুরনো অভ্যাস
তুমি তখনও ছাড়োনি
কেই বা বলেছিল আমায়
পুরনো নামে ডাকতে,
তুমি যে নামেই ডাকো
আমি চিরসবুজ ।
পাতা সব ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও
আমি অজান্তে ভরে উঠি ।
বড় গাছ তোমার চিরকালই ভাল লাগে।

আমি চির-রঙীন ।

Canto 1: Scene 2



১. পুর্বকথা

 

এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি, এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি। সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী, হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে।  ভাসিয়েছে ভবসংসার, এ জন্মে সগর পুত্রেরা পুনরুজ্জীবিত হয়না। কীই বা আছে গল্পকথায়,  গঙ্গাসাগর মেলায় ছোট দোকানের পসরা। তার মধ্যেও সে শ্মশানে সেদিন ভেসেছিল গেরুয়া কুয়াশা। দু-হাত দূরে দেখতে না পেলে, ক্যামেরায় ছবি ওঠে না।  সঙ্গত মৃত্যুপুরীতে সুরক্ষার সতর্ক আয়োজন।  যদিও আই ক্যাম্পে আসা সাধুর প্রাণভয় আছে নাকি, কেঊ জানতে চায় না।

 

শবাধার মণি, সহস্রকর্ণিকায় বিচ্ছুরণ, আমি অপলক

আসোনি অ-সুরে, বা হয়ত কনিষ্ঠায় সৃষ্টি করেছ আতর ।

 

সু-মেঘ ঘনায়, দ্বিপ্রহরে সংবরণ বৃক্ষ সভূমে শায়িত

আপন সাক্ষী তুমি, আমি পাতালন্ত অ-জাগর

পুরাতন অর্ধনারীশ্বর, শিরা বহমানায় জয়ন্ত মৃত্তিকায়

পঞ্চসায়র পেরিয়ে রাতভক্ষ্য দীঘি, আর নাগকেশর  মর্মর ।

 

গাঢ় আঁধার এক, তাও কী বাস্তব, সে অবাস্তব মোহমুল

মাটি গ্রাস কুহক আমি, তীর্থভূমি পরিব্রাজক ।

Canto 1: Scene 1



১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...