Tuesday, 27 February 2024

১১. নাগ শহর

 ভাবিনি, এ জীবনে নিজেকে জানতে গিয়ে সম্মুখীন হতে হবে আঁধারের এ অন্ধকার সম্পৃক্ত করেছে আমায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে   এখান থেকেই জীবনসংগ্রাম, মাটি আঁকড়ে ফিরে দাঁড়াবার লড়াই এ যুদ্ধ আমি জিতবই, সে আত্মবিশ্বাস আমার আছে, জয় করে আমারি মোহান্ধকার ভয় গ্রাস করেছে আমায়, তারপরে আমিই হয়েছি ভয়াল কাল গ্রাস করেছে আমায়, আমিই হয়েছি দ্রোহকাল

জেনো আমায়, আমার শোকসন্তপে, অশৌচ তন্ত্রে আমাকেই দিও অভিশাপ সে পাথেয় আমার, এ পথেই  গঙ্গাবতরণ, এ শহর আমার তীর্থভূমি, এ নগর আমার আশীর্ব্বাদ, আমি সন্ন্যাসী পরিব্রাজক

শায়িল নয়ান, নিমীলিত অঁখি, সহজ সঙ্গমে

ধীর পায়ে তুমি, শয়ন মন্দিরে, আসিলে গহীন অঙ্গনে

অতি ধীরে তুমি, কহিলে আমায়, রাখিও চিত্তাকাশে ।


আমি কহি সখী

আঁখিপল্লব তোর

সে অতি ঘোর

মরণ দশায়, শানিয়া রুধির, সাঁঝ সকাশে

আদিত্য মোহ, যায় ডুবে ডুবে

অতল তোমার, গভর আলিঙ্গনে

 

তুমি কহ মোরে,

তরণী শায়িত, ভাসিয়া যাইও, অন্ত রঙ্গমে

বসন্ত অঘোর, রঙীন সজোর

সুতীব্র নাভি, অথই নীভি, এ বন্ধনে

আসিও রাতে, কেহ কোথা নাই, এ আকাশ ভারী

সতী সাধ্বী আমি, শুধু তোমাকেই চাই,

এ আশা করি

 

আমি কহি সখী, এ অধর তোর,

কাটিয়া হৃদয়, রেখাপাত করি

এ আকাশ ভারী

 

কিভাবে আসিব, আমি যে মৃত

গত কাল রাতে, স্বর্ণ প্রহরে

কিভাবে রাখিব, আমি যে কৃত

গত কাল রাতে, কাষ্ঠ গহ্বরে

তুমি কহ সখা, এ মৃত্যু পুরী

এ স্থানে মোরা, বহুদিন রই

রইয়া রইয়া, সইয়া সইয়া, মৃত্যুরই গীত গাই

প্রতীক্ষা প্রহর, এ নাগ শহর, এ শহরে তুমি

আসিছ আমায়, আমি যে তোমায়, হৃদয় মন্দিরে

 এ অমৃতধাম, ইহা পরে শুধু ,আমরা সবাই

হেথায় হোথায়, আকাশেরও বুকে, অস্থির রাতে, একাকী এড়াই

আঁকিয়া আঁখি, প্রিয়তম তুমি, আসিও আমার, অশ্রু সন্তপে

আঁখি নদী এই, চিরকাল তব,

তোমা হেথা যাই

অন্ত অঙ্কনে

Canto 1: Scene 11

Saturday, 24 February 2024

১০. অন্যকথা

 এ যাবৎ ভেবে দেখিনি, যে কাজ, তার কর্মফল কোথায় নিয়ে যেতে পারে আমায় সাফল্যের সুউচ্চ প্রাসাদ আমার অধিকার, তার পরেও কোথাও বাকী রয়ে যায় কাঞ্চনসুবর্ণ তার থেকে চলো, চলে যাই কোনো বনান্তরে, যেখানে এখনো হিংস্র প্রবৃত্তির সহাবস্থান খুঁজে দেখি আশীবিষচূর্ণ, চোখের তারায় ভেসে উঠুক জ্যোৎস্না

 আমায় হত্যা  করেছে বিরহ, আমি প্রাণভয়ে করিনি পলায়ন অন্তরায় সুর বেঁধেছি অক্ষসাম্রাজ্যের, তার পরেও বারবার ফিরে আসি তোমার শেষ সাবধানবাণীতে এসো না আমার ঘরে, এখানে রাখা আছে আজন্ম অপমান এ ঘরে রাত্রিবাস করে না কোনো সাধু

 তোমায় সূর্য্যমুখীর আলোয় দেখেছি প্রতিনিয়ত জানি তুমি থাকবে না কিছুতেই তার পরেও, তোমার চলে যাওয়ার পথে আমি বিছিয়ে দিয়েছি মখ্মলের গালিচা হয়ত বা অনর্থক, তাও ইচ্ছাসম্মত


সন্ধ্যাবেলায় শুধু আশঙ্কা আগে ডাকে

বিহাগ রাগ দিয়ে লেখা কিছু শব্দ

আর সরযূ নদীর তীরে পুরনো শিবমন্দির

অস্পষ্ট স্মৃতিচিহ্ন, সেদিন সকালের মত

 

আজান ভেসে আসে, এদিনের কাহিনী আপন মনেই ফুরোয়

শেষ নেই এই অবিরাম যাওয়া- আসার

মেঘ বৃষ্টির নামান্তর

আরো দূরে কোনও মজলিস


এ বছর হয়ত আর যাওয়া হবে না বাউল মেলায়

সামনের বছআগেই চলে গেছে

বৃক্ষ তাঁর নিজস্ব সুচিন্তনে

নদীর বুকে আলোছায়া

তুমি আর আমি

স্বর্ণযুগের প্রেমিক প্রেমিকা

আমাদের রাত শেষ হয়

নিঃসীম দিনযাপন ।

 

অন্যকথা

আজ এত একা লাগে

আকাশগঙ্গাও মনে হয় নিজেকে অচেনা

রূপ রঙ আলো

তার ও দিনরাত অযথা

এ সময় জানে

তোমার গহীন অস্মিতা 



 








নির্জনে অবকাশে নুপূর পরা পায়ে

আমাদের বাড়িতে রাতির মনে পড়া

সেঁজুতি চয়নে স্নিগ্ধ আবেশ

সেদিন তুমি অস্পষ্ট আনমনে

তোমায় দেখতে চেয়ে অযান্ত্রিক পথচলা

 

তুমি তাও জেনেছিলে,

আমি কখনোই চাই নি যে তুমি

এভাবে নিজেকে অজানায় হারাও

হিমশীতল রাতে

তুমি তাও জেনেছিলে

আমাকেই অজানা কোনও সুরে

Canto 1: Scene 10

Wednesday, 21 February 2024

৯. পদ্মপলাশ

রাতভর পদ্মপলাশ বুকে নিয়ে, তুমি শুধু বলেছিলে, আমায় যেতে দিও আমি চোখ বোজবার আগে প্রতিদিন বলি, এ স্বপ্ন যেন রয়ে যায়, না যায় চলে তাও তুমি কিছুতেই মানবে না, আমায় বলবে তুমি অতিমানবী তোমায় কিছুতেই খুঁজতে নেই, চৌরাস্তার মোড়ে, রাতের শহরে

 

এক রাত কষ্ট নিয়ে তুমি একদিন বললে

আমায় চেয়ে ফিরে যেও না

অন্যকথা সব থাক

আজ শনিবার, আজ আমার ব্রতকথা

আগের রবিবার তোমার কাছে চেয়েছিলাম নদী

তুমি রাতভর  অয়েল পেন্টিং ক্ষুধার

তারপর কোনও এক ভোরের অস্থিরতায়

যেতে দিলে আমায় নির্বাক চেয়ে

আমায় চেয়ে ফিরে যেয়ো না

কথা দিও আমায়



 





অন্যকথা সব থাক

প্রয়োজন কী আমার

অহেতুক অমৃত সৃষ্টি করবার

আমাতে শুধুই ক্ষুধা

নদী হয়ে আমি শুধু ভাঙি

এ সংসার, এ পরিমিতি

 








এ ঘর না হয় নাই বা হল আমার

অন্যকথা সব থাক

প্রয়োজন কী আমার

অহেতুক অমৃত সৃষ্টি করবার

আমায় চেয়ে ফিরে যেয়ো না

সাগর চেয়ে আমি

তোমাকেই শুধু জানি

Canto 1: Scene 9

Monday, 19 February 2024

৮. ইচ্ছাপাথর


তোমার বিশ্বাস হয়না, এত সহজে সব ঠিক হতে পারে এই তো ব্লু-প্রিন্ট, এভাবে, এভাবে, এভাবে, আর তারপর, এভাবে তার পরেও মনে হয় অতীন্দ্রিয় কোনও শক্তি, সবার অলক্ষ্যে, নির্ধারণ করছে তোমার গতিবিধি এ পৃথিবী তাকে চেনে না, চেনার প্রয়োজন ও নেই না চিনল, তুমি তো জানো আমায়, আমি তো তোমার বিশ্বাস ভাঙিনি

তোমার বুকে ইচ্ছেপাথর, আমি তো আঁচর কাটিনি জানি, সেদিন আমাদের ফ্রেমে বাঁধানো ছবিটা ভেঙে দিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি বলো, আমরা কি সেই মূহুর্ত্তে নিজেদের মধ্যে ছিলাম ?

ইরা, তুমি বলেছিলে একদিন আসবে

তুমি জানতে, কোথাও এক স্থির বিন্দু তে আছে নিহিত সমাপ্তি

সে সব জেনেও তুমি বললে, আজ না, এখনো অনেক দেরী

তুমি কি সে রাতে জেনেছিলে, পথ হারিয়ে ফেলার আমৃত্যু খেলায়

বড় রাস্তা যেখানে নিয়ে যায়, সেখানে কিছু রাখা নেই

আবার হয়ত বা আমাদেরই কঠিন অনুশাসন


যদি কোনোদিন সময় পাও, চিঠির উত্তর দিও

বোলো আমায়, ঘর ছেড়ে যাওয়ার সুবর্ণ ইচ্ছাপাথর

অযথা বিনম্রতা না রেখেই বোলো

চোখ দিয়ে কথা বোলো আমায়



 






দূর থেকে দেখা কিছু অদর্শন

তার ও কী থাকে না বলার অধিকার

এই কঠিন তর্কের মীমাংসা চলো আজকেই করি

আজ সকালেই লিখে ফেলি বিয়ের চুক্তিপত্র

তার পরেও তুমি বলবে

কী মানে আছে এক সাথে পথ চলার

না হয় আরও একবার হারিয়ে গিয়ে দেখি

তোমায় খুঁজে পাই যদি এ মায়াবী সংসারে

এর পরেও তোমার অনেক কথা বাকী

বলতে গিয়ে যদি কথা হারাও

তা সত্ত্বেও আমি জানি

তুমি আমাকেই ভালোবাসো


জেনো ভালোবাসার আছে ফিরে পাওয়ার যথার্থ কারণ

হয়ত এগ্রীমেন্টে লেখা নেই

আমায় নীল বলে ডেকো

সাড়া দিও আমার দুঃস্বপ্নের আয়নায়

কোথাও কী লিখে রেখেছো

অভিশপ্ত এক প্রতিশোধ


জানি তুমি এ বিষ ভালোবাসো

তুমি বারবার ফিরে আসো

এই মায়াপৃথিবীর গোলকধাঁধায়

আমাদের একান্ত পথচলায়

Canto 1: Scene 8

Saturday, 17 February 2024

৭. মোহিনী

 যে পথে গেলে আমায় পাবে, সে পথ তোমার সবসময় অচেনা মনে হয়   গ্যাসলাইটের ঘোলাটে আলোয় খিদিরপুরে তুমি আমায় দেখেছিলে, অনামী কোনো পানশালায় তুমি নিয়ন আলোয় সেজে উঠেছো, রাতের পোষাকে তোমায় দেখে আমি চোখ ফেরাতে চেয়েও, দৃষ্টি ফেরাতে পারিনি আকন্ঠ তোমার বিষ আমায় পরিপূর্ণ করেছে যেমন নৌকার গায়ে নদীর ছল্ছল্‌, তেমন তুমি নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলে আমায় ডুবে গেলে যাবে, এখন আমায় ভুলে থাকো

আমায় জড়িয়েছিলে ওড়নায়, অজানা কোনও নামে ডেকেছিলে আমায় আমি সাড়া দিতে চেয়েও পারিনি   সে সময় যখন অতিক্রান্ত, তুমি হাত বাড়িয়েছ তোমার শরীরে ভুলিনি সেদিন, শুধু মদের দাম চুকিয়ে চলে এসেছি, যাতে কেউ চিনতে না পারে

তার পরে তোমায় যেদিন দেখি, তুমি কোথাও যাচ্ছ আমায় দেখে না চেনার অভিনয় করলে, যদিও আমি ঠিকই জেনেছি তোমায়

 পার্থিব লালাভ বর্ণিমা, কুয়াশা অস্থির রতি, রক্ত চাও

মার্জিত অসম, ত্বমঃ, তুহ অতি শৈব্যা যতি, চাও,

অর্থানর্থ ভাববার সময়, চেয়ে নিয়ো আমার শোণিত

অর্চনা দিও, আর অঙ্গীকার, বৃথা পাপ সংসর্গ

চন্দ্রচূড়া মানসী, অক্ষিপাতে চেও শাপিত ত্বরায়

সাঁঝ এলো বলে, সাধভক্ষণের সময় ঘনায়

সঞ্চার সন্ধান রহিত যে জন্মকথা, তা একান্তই তোমার আমার   আমরা কোনদিনই ঠিক বুঝে উঠতে পারি না, এই উৎসবের ভিড়ে, আমাদের আলাপচারিতায়, ঈশান কোনে মেঘ জমে সে অস্তরাগ বুকে নিয়ে, সুচিত্রা তুমি মোহিত করেছ আমায়, জলপথে সন্তরিতা হরিণীর ন্যয় পেয়েছি আমি তোমায় অস্ফুট মূর্চ্ছনায়, ইতস্তত মৃতদেহের ভিড়ে, যেখানে শুধু তুমিই পূজিতা, সিংহবাহিনী রূপে কোনও এক রাতে, শ্মশানে, মৃত্যুপুরীতে, আমি অপেক্ষা করেছি তোমার প্রার্থনায় তার আগে আকন্ঠ গ্রহণ করেছি রুধির সে সুরা পানে, মোহমুগ্ধ আমি, চেয়েছি তোমায়, রজনীগন্ধায়, আর সন্ধ্যাপ্রদীপে

সুচিত্রা, তুমি আমায় জানাতে পারতে

তুমি অভিনয় একটুও পারো না

যা কিছু বলেছ, তা মিথ্যা নয়

যা কিছু বলোনি, তা সত্যি নয়

আমি জেনেছি তোমায়, শেষ প্রদীপের আলোয়

আমি জেনেছি জন্মদিনে, একান্ত আপনে

তোমার মৃত্যু দিনে, আমার বিবাহ বাসরে

Canto 1: Scene 7

১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...