Showing posts with label Eira. Show all posts
Showing posts with label Eira. Show all posts

Monday, 19 February 2024

৮. ইচ্ছাপাথর

তোমার বিশ্বাস হয়না, এত সহজে সব ঠিক হতে পারে । এই তো ব্লু-প্রিন্ট, এভাবে, এভাবে, এভাবে, আর তারপর, এভাবে। তার পরেও মনে হয় অতীন্দ্রিয় কোনও শক্তি, সবার অলক্ষ্যে, নির্ধারণ করছে তোমার গতিবিধি । এ পৃথিবী তাকে চেনে না, চেনার প্রয়োজন ও নেই । না চিনল, তুমি তো জানো আমায়, আমি তো তোমার বিশ্বাস ভাঙিনি ।

তোমার বুকে ইচ্ছেপাথর, আমি তো দাগ কাটিনি । জানি, সেদিন আমাদের ফ্রেমে বাঁধানো ছবিটা ভেঙে দিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি বলো, আমরা কি সেই মুহূর্তে ভালবেসেছিলাম ? 

হয়ত ।

( তোমাকে লেখা একটি চিঠি )

ইরা, তুমি বলেছিলে একদিন আসবে

তুমি জানতে, কোথাও এক স্থির বিন্দুতে আছে নিহিত

আমাদের একান্ত পরিণয় , আমাদের বিভিন্নতার অস্তিত্ব

অলিখিত এক সম্বন্ধ , যা শুধু দূরে নিয়ে যায়

সেই বিন্দু থেকে এক মায়াবৃত্ত

আমরা পথ হারাই গোলকধাঁধায় ।

 

সে সব জেনেও তুমি বললে, আজ না, এখনো অনেক দেরী

তুমি কি সে রাতে জেনেছিলে, পথ হারিয়ে ফেলার আমৃত্যু খেলায়

শুধু ফিরে চাইতে নেই , শুধু অপেক্ষা করতে নেই?

আবার হয়ত বা আমাদেরই আন্তরিক জটিলতা

বিরহের সন্ধ্যায় আমাদেরি অশনিতা ,

যদি কোনোদিন সময় পাও, চিঠির উত্তর দিও

বোলো আমায়, ঘর ছেড়ে যাওয়ার সুবর্ণ ইচ্ছাপাথর

অযথা না ভালবেসেই বোলো

চোখের কাজল সাজিয়েই বোলো

দূর থেকে দেখা কিছু অদর্শন

তার ও কী থাকে  হারিয়ে যাওয়ার অধিকার

এই তর্কের মীমাংসা চলো আজকেই করি

আজ সকালেই লিখে ফেলি বিয়ের চুক্তিপত্র ।

 

তার পরেও তুমি বলবে

কী মানে আছে এক সাথে পথ চলার

না হয় আরও একবার হারিয়ে গিয়ে দেখি

তোমায় খুঁজে পাই যদি এ মায়াবী সংসারে

এর পরেও তোমার অনেক কথা বাকী

আমায় বলতে চেয়ে

কেন তুমি বারবার ফিরে আসো

বিকেলের একান্ত  সীমানায়

যেখানে  একলাটি সেই বাড়ি

একটা ডায়েরী

আর তোমায় লেখা একটি চিঠি ।

 

হয়ত এগ্রীমেন্টে লেখা নেই

আমায় নীল বলে ডেকো

সাড়া দিও আমার দুঃস্বপ্নের আয়নায়

কোথাও কী লিখে রেখেছো

অভিশপ্ত এক প্রতিশোধ ।

বলতে গিয়ে যদি কথা হারাও , 

তা সত্ত্বেও আমি জানি

তুমি আমাকেই ভালোবাসো ।

Canto 1: Scene 8



Thursday, 15 February 2024

৫. সাদা অপরাজিতা

সাদা অপরাজিতার চন্দ্রাতপে তোমার দীর্ঘশ্বাস

লোহিতকণিকায় অযথা আলোড়নে

তুমি সুগ্নন্ধী  স্পর্শ করেছ কণিষ্ঠায়

সুরসরগমের নিভৃত সবিনয়ে,

আমাকেই করেছ বিরাগভাজন ।

 

যত অভিমান, করেছ সমর্পন,

অশরীরি আঁচলে জড়িয়েছ আমার স্মৃতি

বারবার চলে যাওয়ার অনাদায়ে

তোমায় মনে রেখে আমিও সন্তরণ

বহুবার পেরিয়েছি এ সাগর পূর্ণিমায়

মৃত্যুর পরেও যে মৃত্যু

সেই অগম অহমিকায় ।

 

আমি গেয়েছি তোমারি গান

স্মৃতিসুধায়, সাধক মণিকোঠায়

আমি গেয়েছি তোমার গান ।

 

স্বৈরী স্বতঃ, তামস সাগ্নিতা, মৃণালিনী, সূর্য বিম্বাধর,

স্তিমিত অস্তি, অর্থী অতল, আরও গভীরে, কার্ষ্ণ সর্পরাগ

পাকদণ্ডী বিস্ময়, শিরি তীক্ষ্ণ, রুধির, সুধীর স্বয়ম, মধ্যমা ঊর্ধ্বাগতি

আসিছ আলয়, যমালয়, প্রেয়সী, শাণিত শায়িতা ।

 

শুদ্ধ ক্রোধ, বিরাগ তনয়া, হানিছ গরল ; ত্বমঃ, মৃতা বিস্তৃতি

অর্থী অতল, অন্তর, গভর,  আরও, আরও গভীরে, 

শিরি তীক্ষ্ণ, শিরি মধ্যমা, শিরি গাঢ়, সহিয়াছি অলীক,

আসিতে সাধ, অসিতে রাগ, আসিতে দাও, অসিতে চাও

সায়নী শুদ্ধা, রাগ ভৈরব, ভৈরবী, অহম্‌ গাহি

মধুরা সধবা, প্রণয় তৃষ্ণা, প্রেম রাখি হারায়ে  ।

 

আসিও সকাশে, ইত্য অবকাশে, অক্ষিপাত অহ,

প্রচণ্ড অস্তি, সুচন্দ্রা সম,  মৃণালিনী, চন্দ্র  ওষ্ঠাধর,

অস্ত কালে, চান্দ্রেয়ী চাহিল, নিঃশব্দে

হৃদি সঙ্গীত, গাহিল,

অব্যক্ত ।

 

নীলাভ অঙ্কিত নক্ষত্রের বিদিশায়, তুমি সধবা হতে চেয়েছিলে ইরা।  তোমায় অনেক বোঝালো পাড়াপড়শী,  জেদ তোমার, আমায় যে পাও নি । এরা কারা, আরও অনেকবার আমায় বলেছো, চলো দূরে কোথাও থাকি । আমি ভরসন্ধ্যায় অনেকের ভিড়ে, তোমায় এঁকেছি, অযান্ত্রিকে । পদ্মপাতায় জল, তাও ধরে রাখি রঙের তুলিতে, যদি তুমি দেখো ।  সবাইকে পেরিয়ে, পদ্মা, ইরাবতী, আমি আর তুমি, অনন্ত নক্ষত্রবীথি । 

এ কাল-বাসরে নক্ষত্র পূজিতা তুমি, তোমার আশঙ্কায় পদ্মায় নামে ধ্বস, পলিমাটির বলিরেখায় তুমিই এঁকে দাও রক্তচন্দন ।

অনন্তনাগ গ্রস্তা, বাগদত্তা তুমি, ভাবিয়াছ কী অপরিমেয় প্রশস্তি, তাঁহার মনন অভ্যন্তরে ? জানিয়াছ কী ভরা কোটালের দীর্ঘশ্বাস, অলস নৌকাবিহারে ? অতনু অনিকেত আমি, আমি জানিয়াছি তোমারে ।

বিমর্ষ সাগরপারে মণিভস্ম দিয়ে সাজিয়েছি তোমার নাভীপদ্ম । তোমায় এঁকেছি কাঁচা সোনার রঙে, আর তামাটে সূর্য্যের প্রজ্জলিত পাথরে । তুমি নাগরী, গাইয়ছি তোমারি গান, শোক সঙ্গীতে ।  জেনো তুমি নিশ্চিত, এ মায়ানগরী ছাড়ি, এ চিতাভস্ম উড়ি, এ শ্মশান গড়ি, করিয়াছি তোমারি পূজা অনন্ত বীক্ষিত । রাখিয়াছি তোমারেই হৃদি, যদি বা ফিরিতে পারি ।

Canto 1: Scene 5






১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...