আমায় বিদীর্ণ করেছে আমারি শাণিত নখর । নৃসিংহ রূপে আমিই করেছি হিরন্যকশিপু বধ । চিনেছি আমার নিহন্তাকে, তার প্রস্তরীভূত নাগ শরীর । এ কথা বলার আগে, ধর্ম আর অধর্মের সৃষ্টিছাড়া সংলাপ কন্ঠস্থ করেছি । বিষ্ণুতন্ত্র বুঝতে গিয়ে দেখি, তা মূলাধারে অবিন্যস্ত । সে মূহুর্ত্তে আমার মধ্যে নাই প্রেম, আছে শুধু পাশব ক্ষুধা, আর নাই কোনও প্রাণ তোমার প্রতি ।
প্রার্থনা
করেছি প্রতিরাতে, হে ঈশ্বর, বধ করো আমায় ।
নরকযন্ত্রনায় বৃদ্ধ আমি, চাহিয়াছি মৃত্যু ।
আমি জানিতে চাই তোমায়। আমি
দেখিতে চাই প্রমাণ ।
শুনিয়াছি পথে, অদ্ভূত
এক আলেখ্য ।
শুধু অসহায় যে, প্রহ্লাদ
সম, সেই ভালোবাসিতে পারে । আমি
সর্বত্র দেখিতে চাহিয়াছি ঈশ্বর, নিজ মধ্যেও সন্ধান করিয়াছি
অতিপ্রাকৃত ।
হিরণ্যকশিপু
অসহায় ।
শিশুরূপে শায়িত পিতার অঙ্কে,
মৃত ।
নার্সিং হোমে, থামের সামনে,
রাধাকৃষ্ণের মূর্ত্তির সামনে দাঁড়িয়ে আমি।
এ
বিষাদ অভিপ্রেত, আমরা কোনও এক সময়ে মেনে নিই
জেনেছিলাম
অন্য কোনও ক্ষোভ, আরও এক কলিকালে
জান্তব
বৈষ্ণব তখন চতুর্মুখে দিচ্ছে পাহারা
প্রতিমূহুর্ত্তে
আশঙ্কায় আত্মাহুতি
প্রতিরাতে
প্রহর গণেছি, নিঃশব্দ অলীক নিয়মে
তুমি
বোঝনি এ অন্তকাল
চেনো
নাই বিশ্বাশহন্তা দুষ্মন্তরে
শুধু
জানতে চেয়েছ, আরও কত যুগ পরে
রক্ষিবে
আশা অন্তরে ।
আমি
শুনেছি,
সে রাতে তুমি, কেঁদেছিলে
হে
ঈশ্বর বলে ডেকেছিলে, এক অসহায় ভাগ্যনিয়ন্তাকে
মরণ সমীপে অনায়াসে এসেছিলে
করকমলে
রেখেছিলে পত্রলেখা
শেষ
স্মৃতিকণা দিয়ে সাজিয়েছিলে পাশব সোহাগ
সে
সময় ও বিলুপ্ত হয়, আরও নিকষ কোনও অন্তরে ।
মনে
পড়ে,
প্রথম যেদিন তুমি আমায় চেয়েছিলে
রক্তনাম
দিয়ে এঁকেছিলে ঠোঁট, চোখে দিয়েছিলে ঘন কাজল
দূর
থেকেই হয়ত, তা’ও ভুলে যাওয়া
ভালবাসায়
ফিরে
তাকিয়েছিলে কালো জলের আয়নায়
বিস্তার
করেছিল আমার স্পর্শ, তোমার চাহিদায় ।
ফিরিয়ে
দিয়েও,
নিজেই ফিরে এসেছিলে
আমায়
অন্য আরো সম্বোধনে চেয়ে
আমায়
অপূর্ণতা দিয়ে, এক পাশবিক আলেখ্যে ।
অরণ্যে
গমন আমার,
তুমি অরণ্যানী
অজাগর
মোহ,
জেনেছ আত্মনিবেদনে
এ
অম্লান রতিক্রিয়া, এতে সমাহিত দক্ষিণ রায়
এ
অগম পুরে,
তুমি সুরক্ষিতা, জেনেছ এ সময়
প্রবাহিত
মায়া,
অশরীরি জলরাশি
ঘোর
বৈষ্ণব আমি, আমিই শৈব
এ
পার্থিব শরীরে, জেনো আমায়,
সুশান্তি
আমাতেই আসি ।
Canto 1: Scene 16

