Friday, 8 March 2024

১৪. যক্ষ্মীবিভঙ্গ

যক্ষ্মপুরীর নিহন্তক বিষাদ তোমার একান্তই সুধাকরী । 

সৌমিলি আলোয় তোমার নিরলীক অন্ত্যরাগ , প্রেমের গহীন নির্বিকল্পতায় তোমার  মৈথিলী অনুরাগ , ভালোবাসার সঞ্চিতায় তোমার সর্পিতা অবভাস । 

প্রথম পুরুষের হৃদয় যামিনী পরে বর্ণে বর্ণে তোমার অভিমান , তাহার সুলেখন হয়ত আজ আমারই 

পার্থিবতা ।

বিনা কারণে যখন কোনো কিছুই হয়না, তখন হেতু নিরন্তর । তাহার পরেও তুমিই হয়ে ওঠো 

নির্জনতা, শরীরের শিরাবিস্তারে তোমারি নেশা আমায় বিভোর করে । নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে তোমারি সঙ্গমিত 

বিরহ আমায় স্পর্শ করে , আমি এক দিন এক দিন করে তোমার পথ চেয়ে থাকি , নির্জনতার নির্মোকে 

আমার সম্বিত পূর্ণতা পায় ।

আমি যক্ষ, আমি স্বয়ম্ভূ প্রেমে, আমি পাইয়াছি নারীর অন্তরের অনন্ত অমৃত । মৃত্যু আমারই শাশ্বত 

সত্য, এ পরপারে আমার পরিনির্বাণ , তোমায় ভালবেসে।

 

সুচিত্রা, পৃথা, বা রাত্রি

যে নামেই তোমায় ডাকি না কেন

তুমি সাড়া দাও ‘আমি” বলে ।

প্রেমের অন্তঃপুরে তুমি একাকিনী

দেখতে দেখতে বেলা বয়ে যায়

রাত হয় ,

নাচ ঘরে কাহাকে চাও তুমি ?

 

অনাদিকালের রূদ্ধসঙ্গীত তোমার যক্ষ্মীবিভঙ্গে

তুমি সম্যক চেয়েছিলে মদিরা, নিশিরাতে বিষাদের সম্মোহনে

মহা অন্ধকার এই ধর্মপুরে আমারি অধিবাস

আমারই হয় অন্ত্যেষ্টি, আমিই সকল নাশ ।

নীলিম আদিমতায় তোমার পরিণয়

তোমারে জানি, তুমি অস্থির ভারী, ভয় পাও নাই রাত্রিতে

অনীতা তুমি, আমায় কহিও, আরও একবার ,

প্রেম করি তব, লোভ নাহি, ভয় নাহি মোর মনে ,

সে আমি জ্ঞাত, জানি তোমারে, তুমি আমাতে সমাহিত ।


Canto 1: Scene 14


No comments:

Post a Comment

১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...