যক্ষ্মপুরীর নিহন্তক বিষাদ তোমার একান্তই সুধাকরী ।
সৌমিলি আলোয় তোমার নিরলীক অন্ত্যরাগ , প্রেমের গহীন নির্বিকল্পতায় তোমার মৈথিলী অনুরাগ , ভালোবাসার সঞ্চিতায় তোমার সর্পিতা অবভাস ।
প্রথম পুরুষের হৃদয় যামিনী পরে বর্ণে বর্ণে তোমার অভিমান , তাহার সুলেখন হয়ত আজ আমারই
পার্থিবতা ।
বিনা কারণে যখন কোনো কিছুই হয়না, তখন হেতু নিরন্তর । তাহার পরেও তুমিই হয়ে ওঠো
নির্জনতা, শরীরের শিরাবিস্তারে তোমারি নেশা আমায় বিভোর করে । নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে তোমারি সঙ্গমিত
বিরহ আমায় স্পর্শ করে , আমি এক দিন এক দিন করে তোমার পথ চেয়ে থাকি , নির্জনতার নির্মোকে
আমার সম্বিত পূর্ণতা পায়
।
আমি যক্ষ, আমি স্বয়ম্ভূ প্রেমে, আমি পাইয়াছি নারীর অন্তরের অনন্ত অমৃত । মৃত্যু আমারই শাশ্বত
সত্য, এ পরপারে
আমার পরিনির্বাণ , তোমায় ভালবেসে।
সুচিত্রা,
পৃথা, বা রাত্রি
যে নামেই তোমায় ডাকি না
কেন
তুমি সাড়া দাও
‘আমি” বলে
।
প্রেমের অন্তঃপুরে তুমি
একাকিনী
দেখতে দেখতে বেলা বয়ে
যায়
রাত হয় ,
নাচ ঘরে কাহাকে চাও তুমি
?
অনাদিকালের রূদ্ধসঙ্গীত
তোমার যক্ষ্মীবিভঙ্গে
তুমি সম্যক চেয়েছিলে মদিরা,
নিশিরাতে বিষাদের সম্মোহনে
মহা অন্ধকার
এই ধর্মপুরে আমারি অধিবাস
আমারই হয় অন্ত্যেষ্টি,
আমিই সকল নাশ ।
নীলিম
আদিমতায় তোমার পরিণয়
তোমারে জানি,
তুমি অস্থির ভারী, ভয়
পাও নাই রাত্রিতে
অনীতা তুমি,
আমায় কহিও, আরও
একবার ,
প্রেম করি তব,
লোভ নাহি, ভয় নাহি
মোর মনে ,
সে আমি জ্ঞাত,
জানি তোমারে, তুমি
আমাতে সমাহিত ।
Canto 1: Scene 14
No comments:
Post a Comment