মৃত্যুর নিরন্তর হৃদ্যতায় তুমি চোখ মেলে চেয়েছিলে । আমি যেন নিবিড় প্রেমে তোমার চিবুক স্পর্শ করেছিলাম । তোমার সজল আঁখিতে সেদিন যেন শুধু হারিয়ে ফেলার ডাক । সুরভিত এক নিশিরেখায় আমায় দিতে চেয়েছিলে এই জন্মের শেষ দেয়ানেয়া , চলে যেতে চেয়েছিলে অনেক দূরে , যেখানে আমার একাকীত্ব যেন তোমায় আর ডাক না দেয় ।
তোমার সেই আবেদন আমি অস্বীকার করি । বিরহের অন্তরীন নির্ভাবে তোমার কাছে চেয়েছিলাম
একান্ত প্রতিশ্রুতি , অন্তত চলে যাওয়ার এই মুহূর্তটি যেন আমাদের মনে রয়ে যায় , একাকীত্বের
অশেষ নির্বাণে যেন আমাদের কথা বাকী রয়ে যায় , মৃত্যুময় এই প্রহেলিকায় যেন আমাদের বিশ্বাস না হারায় ।
তুমি মুখ ফিরিয়ে নিতে নিতে আর একবার ফিরে চেয়েছিলে , শহরের প্রাণহীন আলোছায়ায় আমার
হাত ধরেছিলে , বলেছিলে, আমার জন্য অপেক্ষা কোরো না । নিশিকন্যা তুমি , নিশি পরে মিশে গিয়েছিলে ।
আমার চারিপাশে তখন শ্মশান, আমি হয়ত মরে গিয়েছিলাম , না হয় একদিন তুমি সেটাই চেয়েছিলে ।
মনে পড়ে,
প্রথম যেদিন তুমি আমায় দেখেছিলে
মৃত্যুশোক দিয়ে
এঁকেছিলে ঠোঁট, চোখে দিয়েছিলে ঘন কাজল
দূর থেকেই হয়ত,
তা’ও ভুলে
যাওয়া ভালবাসায়
ফিরে তাকিয়েছিলে কালো জলের আয়নায় ।
আমার নীহারতায় সেদিন আকাশী
বিভাব
হৃদয়ের মন্দ্রিম নিঃসীমে
তোমার হারিয়ে ফেলা একটা ছবি
সেই ছবির অন্তরতায় শুধু
তোমায় না পাওয়ার কষ্ট ,
আমাকে বলেছিলে এবার পূজোয়
আর দেখা হবে না
আমার আয়নায় তুমি সেদিন মৃত্যুর মত স্পষ্ট ।
Canto 1: Scene 16
No comments:
Post a Comment