Friday, 16 February 2024

৬. অব্যক্ত

অবলীলায় নীল বলে ডাকলে আমাকে ।  বিষাদঘন কোনও মুহূর্তে যেমন ভোরের আকাশ মন ছুঁয়ে যায়, তোমার সহজ সাড়া পেয়ে আমিও একাকী ।  প্রয়াতের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেই বলি, ফিরিয়ে নিয়ো না এই মায়া শরীর ।  হয়ত আজ রাতে আমরা দুপাশ ফিরে ঘুমোই, দুই আলাদা বিছানায়, আমাদের মাঝখানে শুধু অব্যক্ত কথার ভার । রাত আরো গভীর হলে তুমি স্বপ্নের মধ্যে অস্ফুটে কিছু বলে ওঠো । আমি ওপাশ ফিরে, যাতে আমার চোখের জল তুমি দেখতে না পাও । তুমি ঘুমোচ্ছ, আমি বুঝতে চেষ্টা করছি, তুমি কী বললে ।  হারিয়ে গেছে,  কিছু কথা না বলাই রয়ে যায় । কাল সকালে তোমার হয়ত কিছুই মনে থাকবে না, আমরা যে যার মতন দিনযাপন করি আপাত ব্যস্ততায় । 

 

সুচিত্রা, নেশা ছন্দ আঁচল, অনাবিল অপার্থিব, আসোনি সাগর সঙ্গমে

বিষাদ জোছনায় বেঁধেছ চরা, গাঢ় সঙ্গীতে ডেকে নিয়েছ রাতপাখী

আর ধীর সঙ্গমিত, অন্তরিত অবসিদ্ধ , সে আমি, আমাকেই ভাবিয়াছ সায়নীত

নির্দিশায়, নিষিদ্ধ সঙ্গমে শিড়দাঁড়ায় বেঁধে নিলে বটগাছের যত শাপ,

স্তব্ধ, স্তব্ধ, স্তব্ধ,

সে হৃদি মৃত, যে গাছে অভিশাপ পাথর ।


অবিকল্প দোটানায়, জোয়ার ভাঁটায়

চূর্ণি হীরি আর বৈদূর্য্য মণি, সে ত্বরিত

হৃদিপদ্মে সর্প,

স্থিত, স্থিত, স্থিত ।

অঙ্গরাগ বিতৃষ্ণ, আভাস সে শীষ্‌ , বিভাসে বিহনিত

শোনে না কেঊ, আমি অর্ধনীমিলিত ।

নদী, নদী, নদী

সে গ্রাস করে

গ্রস্ত, গ্রস্ত, গ্রস্ত

এ দ্রোহকাল, চন্দ্রগ্রহণ ।

 

সে এসেছে, শবের ভেলায় শুয়ে,

সাপে কাটা দেহ, আরো বহুবার

তৃপ্ত সে দংশনে ।

রাত, রাত, রাত

ফিরে এসো অণ্বিতা, সে নেই ।

 

তোমায় আমি বিদীর্ণ করব মহাকাল ।

বড় বিরাগ তোমার শয়ন, সঞ্চিত হও আমায় ।

মৈত্রেয়ী মরণ সকল, জেনেছিলে সুতীব্র শিহরণ ?

মুগ্ধতা রয়েই বোলো, হয়ত মিশে যাবে কাল প্রহর ।

মৃত্যু জানিয়াছি আমি, জোছনায় গর্ভপারে, সে শ্মশান,

মরণ সমাসীন ।

 

সন্ন্যাসী, জেনেছি তোমায়,

তুমি রতি আসীন ।

রতি, রতি, রতি

ফিরে যেও মণিবন্ধ অ-মন

আমি অমানিশা, বিষাদ, অপার্থিব গহীন ।

 

নীলি, কালপুরীতে অশেষ বিষাদ তোমার

তুমি শ্মশানে চেয়েছিলে বিস্তৃতি –

আরও, আরও, আরও

নিহন্তা কাঁকল ।

 

পৃথা সম্মত, তৃপ্তি তোমার কৌষিকী

আমায় কালো রঙে সাজালে অনায়াসে

অনিবার্য্য কোনও মাদক তোমার আতিশ ।

তুমি বোঝনি, সে মরণ আমিই

 হৃদি তর্পনে বিবাদী, আমিই বিষাদ, আমি অনির্বান সত্য ।

 

তুমি চাওনি, চেয়েছিলে তবু, মারক আলোয়

 তোমায় আমি হত্যা করব পুরুষ

বৃক্ষ শায়িত, নদীর আহরণ

বলো নীলি, জেনেছিলে সুতীব্র শিহরণ ?

বলো, মুগ্ধতা সরিয়েই বোলো,

হয়ত ভুলে যাবে, এ দ্রোহকাল ।

বিকেল হাহাকার, তাও তুমি স্থির,

বুকে শীত নিয়ে, আমি তে বিস্তৃতি, আর আমি তে বিরহী

অমানিশা আসিল সে দিন ।

Canto 1: Scene 6





Thursday, 15 February 2024

৫. সাদা অপরাজিতা

সাদা অপরাজিতার চন্দ্রাতপে তোমার দীর্ঘশ্বাস

লোহিতকণিকায় অযথা আলোড়নে

তুমি সুগ্নন্ধী  স্পর্শ করেছ কণিষ্ঠায়

সুরসরগমের নিভৃত সবিনয়ে,

আমাকেই করেছ বিরাগভাজন ।

 

যত অভিমান, করেছ সমর্পন,

অশরীরি আঁচলে জড়িয়েছ আমার স্মৃতি

বারবার চলে যাওয়ার অনাদায়ে

তোমায় মনে রেখে আমিও সন্তরণ

বহুবার পেরিয়েছি এ সাগর পূর্ণিমায়

মৃত্যুর পরেও যে মৃত্যু

সেই অগম অহমিকায় ।

 

আমি গেয়েছি তোমারি গান

স্মৃতিসুধায়, সাধক মণিকোঠায়

আমি গেয়েছি তোমার গান ।

 

স্বৈরী স্বতঃ, তামস সাগ্নিতা, মৃণালিনী, সূর্য বিম্বাধর,

স্তিমিত অস্তি, অর্থী অতল, আরও গভীরে, কার্ষ্ণ সর্পরাগ

পাকদণ্ডী বিস্ময়, শিরি তীক্ষ্ণ, রুধির, সুধীর স্বয়ম, মধ্যমা ঊর্ধ্বাগতি

আসিছ আলয়, যমালয়, প্রেয়সী, শাণিত শায়িতা ।

 

শুদ্ধ ক্রোধ, বিরাগ তনয়া, হানিছ গরল ; ত্বমঃ, মৃতা বিস্তৃতি

অর্থী অতল, অন্তর, গভর,  আরও, আরও গভীরে, 

শিরি তীক্ষ্ণ, শিরি মধ্যমা, শিরি গাঢ়, সহিয়াছি অলীক,

আসিতে সাধ, অসিতে রাগ, আসিতে দাও, অসিতে চাও

সায়নী শুদ্ধা, রাগ ভৈরব, ভৈরবী, অহম্‌ গাহি

মধুরা সধবা, প্রণয় তৃষ্ণা, প্রেম রাখি হারায়ে  ।

 

আসিও সকাশে, ইত্য অবকাশে, অক্ষিপাত অহ,

প্রচণ্ড অস্তি, সুচন্দ্রা সম,  মৃণালিনী, চন্দ্র  ওষ্ঠাধর,

অস্ত কালে, চান্দ্রেয়ী চাহিল, নিঃশব্দে

হৃদি সঙ্গীত, গাহিল,

অব্যক্ত ।

 

নীলাভ অঙ্কিত নক্ষত্রের বিদিশায়, তুমি সধবা হতে চেয়েছিলে ইরা।  তোমায় অনেক বোঝালো পাড়াপড়শী,  জেদ তোমার, আমায় যে পাও নি । এরা কারা, আরও অনেকবার আমায় বলেছো, চলো দূরে কোথাও থাকি । আমি ভরসন্ধ্যায় অনেকের ভিড়ে, তোমায় এঁকেছি, অযান্ত্রিকে । পদ্মপাতায় জল, তাও ধরে রাখি রঙের তুলিতে, যদি তুমি দেখো ।  সবাইকে পেরিয়ে, পদ্মা, ইরাবতী, আমি আর তুমি, অনন্ত নক্ষত্রবীথি । 

এ কাল-বাসরে নক্ষত্র পূজিতা তুমি, তোমার আশঙ্কায় পদ্মায় নামে ধ্বস, পলিমাটির বলিরেখায় তুমিই এঁকে দাও রক্তচন্দন ।

অনন্তনাগ গ্রস্তা, বাগদত্তা তুমি, ভাবিয়াছ কী অপরিমেয় প্রশস্তি, তাঁহার মনন অভ্যন্তরে ? জানিয়াছ কী ভরা কোটালের দীর্ঘশ্বাস, অলস নৌকাবিহারে ? অতনু অনিকেত আমি, আমি জানিয়াছি তোমারে ।

বিমর্ষ সাগরপারে মণিভস্ম দিয়ে সাজিয়েছি তোমার নাভীপদ্ম । তোমায় এঁকেছি কাঁচা সোনার রঙে, আর তামাটে সূর্য্যের প্রজ্জলিত পাথরে । তুমি নাগরী, গাইয়ছি তোমারি গান, শোক সঙ্গীতে ।  জেনো তুমি নিশ্চিত, এ মায়ানগরী ছাড়ি, এ চিতাভস্ম উড়ি, এ শ্মশান গড়ি, করিয়াছি তোমারি পূজা অনন্ত বীক্ষিত । রাখিয়াছি তোমারেই হৃদি, যদি বা ফিরিতে পারি ।

Canto 1: Scene 5






১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...