Thursday, 15 February 2024

৫. সাদা অপরাজিতা

সাদা অপরাজিতার চন্দ্রাতপে তোমার দীর্ঘশ্বাস

লোহিতকণিকায় অযথা আলোড়নে

তুমি সুগ্নন্ধী  স্পর্শ করেছ কণিষ্ঠায়

সুরসরগমের নিভৃত সবিনয়ে,

আমাকেই করেছ বিরাগভাজন ।

 

যত অভিমান, করেছ সমর্পন,

অশরীরি আঁচলে জড়িয়েছ আমার স্মৃতি

বারবার চলে যাওয়ার অনাদায়ে

তোমায় মনে রেখে আমিও সন্তরণ

বহুবার পেরিয়েছি এ সাগর পূর্ণিমায়

মৃত্যুর পরেও যে মৃত্যু

সেই অগম অহমিকায় ।

 

আমি গেয়েছি তোমারি গান

স্মৃতিসুধায়, সাধক মণিকোঠায়

আমি গেয়েছি তোমার গান ।

 

স্বৈরী স্বতঃ, তামস সাগ্নিতা, মৃণালিনী, সূর্য বিম্বাধর,

স্তিমিত অস্তি, অর্থী অতল, আরও গভীরে, কার্ষ্ণ সর্পরাগ

পাকদণ্ডী বিস্ময়, শিরি তীক্ষ্ণ, রুধির, সুধীর স্বয়ম, মধ্যমা ঊর্ধ্বাগতি

আসিছ আলয়, যমালয়, প্রেয়সী, শাণিত শায়িতা ।

 

শুদ্ধ ক্রোধ, বিরাগ তনয়া, হানিছ গরল ; ত্বমঃ, মৃতা বিস্তৃতি

অর্থী অতল, অন্তর, গভর,  আরও, আরও গভীরে, 

শিরি তীক্ষ্ণ, শিরি মধ্যমা, শিরি গাঢ়, সহিয়াছি অলীক,

আসিতে সাধ, অসিতে রাগ, আসিতে দাও, অসিতে চাও

সায়নী শুদ্ধা, রাগ ভৈরব, ভৈরবী, অহম্‌ গাহি

মধুরা সধবা, প্রণয় তৃষ্ণা, প্রেম রাখি হারায়ে  ।

 

আসিও সকাশে, ইত্য অবকাশে, অক্ষিপাত অহ,

প্রচণ্ড অস্তি, সুচন্দ্রা সম,  মৃণালিনী, চন্দ্র  ওষ্ঠাধর,

অস্ত কালে, চান্দ্রেয়ী চাহিল, নিঃশব্দে

হৃদি সঙ্গীত, গাহিল,

অব্যক্ত ।

 

নীলাভ অঙ্কিত নক্ষত্রের বিদিশায়, তুমি সধবা হতে চেয়েছিলে ইরা।  তোমায় অনেক বোঝালো পাড়াপড়শী,  জেদ তোমার, আমায় যে পাও নি । এরা কারা, আরও অনেকবার আমায় বলেছো, চলো দূরে কোথাও থাকি । আমি ভরসন্ধ্যায় অনেকের ভিড়ে, তোমায় এঁকেছি, অযান্ত্রিকে । পদ্মপাতায় জল, তাও ধরে রাখি রঙের তুলিতে, যদি তুমি দেখো ।  সবাইকে পেরিয়ে, পদ্মা, ইরাবতী, আমি আর তুমি, অনন্ত নক্ষত্রবীথি । 

এ কাল-বাসরে নক্ষত্র পূজিতা তুমি, তোমার আশঙ্কায় পদ্মায় নামে ধ্বস, পলিমাটির বলিরেখায় তুমিই এঁকে দাও রক্তচন্দন ।

অনন্তনাগ গ্রস্তা, বাগদত্তা তুমি, ভাবিয়াছ কী অপরিমেয় প্রশস্তি, তাঁহার মনন অভ্যন্তরে ? জানিয়াছ কী ভরা কোটালের দীর্ঘশ্বাস, অলস নৌকাবিহারে ? অতনু অনিকেত আমি, আমি জানিয়াছি তোমারে ।

বিমর্ষ সাগরপারে মণিভস্ম দিয়ে সাজিয়েছি তোমার নাভীপদ্ম । তোমায় এঁকেছি কাঁচা সোনার রঙে, আর তামাটে সূর্য্যের প্রজ্জলিত পাথরে । তুমি নাগরী, গাইয়ছি তোমারি গান, শোক সঙ্গীতে ।  জেনো তুমি নিশ্চিত, এ মায়ানগরী ছাড়ি, এ চিতাভস্ম উড়ি, এ শ্মশান গড়ি, করিয়াছি তোমারি পূজা অনন্ত বীক্ষিত । রাখিয়াছি তোমারেই হৃদি, যদি বা ফিরিতে পারি ।

Canto 1: Scene 5






Wednesday, 14 February 2024

৪. ইন্দ্রপুরী

নেশার কালো রঙ তখন আমার চোখেমুখে

রক্তে রক্তে প্রবাহিত জন্মান্তরের বিষ, এ ঘোর কালকূট

বুঝি না আমি অপত্য স্নেহ, চাই নাই পুত্রসন্তান ।


নাই বা রইল ফিরে পাওয়া জীবনের দায়ভার কঠোর শরীরে,

এখনো হাড় কাটে কঠিন শীত, জানান দেয় জান্তব মোহ ।

এ সকল সত্য, তা’ও হয়ত আমার নয়, অন্য কোনো  এপার্টমেন্ট

আমি শুধু জানি, সকল শরীর লয়ে, আমি অরণ্যচারী

এ শহরে আমি আদ্যন্ত ভবঘুরে, রাখি নি কোনও মায়ার বাঁধন

তার পরেও, প্রতি ভোরবেলায় তোমায় দেখতে চেয়ে

পথ হাঁটি, হয়ত একহাতে দিনের আধার নিয়ে ।

 

অকূল নদীর পারে আমরা মাঝেমাঝেই রচি ইন্দ্রপুরী, সে বাড়ি জিনিষপত্রের অধরা ।  সেখানে শুধুই জানালার এ পাশে অথই সমুদ্র । প্রবালরত্ন দিয়ে আমরা সাজাই নীল আলোর বেডরুম, যদিও সেইবার তুমি চেয়েছিলে গোলাপী। বড় নিষ্ঠুর রঙ, আমি বলেছিলাম, প্রথম রাতের চাঁদের মত চোখ কেটে বসে যায়। এত অবিবেক বর্ণনা তোমার সহ্য হয়নি, অভিমান করে বলেছিলে, তুমি বড় নিষ্ঠুর, নীল। আমি স্টুডিওতে সেইবার তোমার একটা ভাঙা মূর্ত্তি যত্নে সাজাচ্ছি, সুন্দর না হলে আমাদের আর কী? তা’ও তোমার পছন্দ হয়নি, এ বাড়িতে আলো কই, শুধু দেয়াল।  স্মৃতি কক্ষে তোমার মূর্ত্তি আমি রেখেছি, জানতে চেয়ে তুমি বলে উঠেছ, “ইনশাল্লাহ” । তখন আমি তোমার ছবি সাজিয়েছি, ময়ুরকন্ঠী রঙে, যে রঙটা আমরা পরের বার দেবো ভেবেছিলাম । সেখানেও তোমার অপছন্দ, বলে উঠলে তুমি বড় সুন্দর, নীল। এত সুন্দর, যেন চোখ কেটে বসে যায়। এর পরের বার, ঘরটা সবুজ করে দিও।


তোমায় ওরা কেঊ চিনতে পারেনি

শুধু অন্ধকার দেখেছে তোমার স্নানঘরে ।

বাথটবে শুয়ে তুমি, শিরাবিস্তারে নাগিনা ।


তোমায় দেখে ওরা কেটেছে কব্জী

তার পরেও কেঊ চিনতে পারেনি ।


এত আত্মহত্যা তোমার ক্লান্তিকর লাগে আজকাল,

তৃষ্ণা সহজে মেটে না

আর অনেক রক্ত এমনিতেই বয়ে যায়,

নদীর পিপাসা মেটায় ।

তার পরেও তুমি অতৃপ্তা,

আমায় নাম ধরে ডেকেছিলে অনেককাল আগে ।

 

এ যুগের ও আগে সেই যুগ

যখন আমরা আরো কাছে

আমি এখন ও একইরকম

তুমিই শুধু আমায় চেয়ে পাওনি ।

 

সুচিত্রা, তোমার সেই ছবিটা মনে আছে

কলেজ স্ট্রীট থেকে ফেরবার সময়

তুমি পিয়ানোয় বসেছিলে ।

সেদিন আমার কাছে ছিল সামান্যই সম্বল

তার পরেও অসাধ্যসাধন ।


সেদিন আরো যাওয়ার কথা ছিল পুরানো কবরখানায়

এপিটাফে ছিল আমাদের ভুলে যাওয়া পরিচয়

তুমি বলেছিলে, আর দূরে যেও না

এর পরে আছে অখণ্ড অভিশাপ ।

তোমায় ডেকেছিলাম মৃত মানুষের জমায়েতে,

তুমি অবলীলায় এসেছিলে, আমায় ভালবেসে ।

সুচিত্রা, তোমার সেই ছবিটা মনে আছে ?



 




Canto 1: Scene 4

১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...