Tuesday, 13 February 2024

২.বৃক্ষপুরাণ

 
তোমায় বলেছিলাম আগামী কাল দেখা করব, তা হয়ত হবে না  অন্তরঙ্গ কিছু কারণ দর্শাতে পারি, কিন্তু তুমি হয়ত জানতে চাও না  তোমার ভাল লাগছেনা এই শহর, চারপাশে এত মুখের মিছিল যদিও এই মিছিলেই আমরা সবাই, আমাদেরই ঘর, আমরাই কথা বলি  আমাকেই দেখো, শীতের ভোরবেলায়
 
বড় গাছ তোমার চিরকালই ভাল লাগে
অনেকবার ছায়ায় হারিয়ে যাওয়া যায়
কল্পনা করো দোলপূর্নিমায়, সেই যে বীরভূমে,
গাড়িটা যেখানে হঠাৎ থামে, পথচলতি মেয়েদের ঠিকানা চেয়ে,
সেখানে সেই একা গাছ
 
সে কিন্তু তোমায় তখন ডাকেনি
পাতা ঝড়াবার সময়
গাছেরা হয়ত আরও কোনও নিমগ্ন ধ্যান ;
তাও তুমি মানোনি
অঙ্গুলিকায় জড়ানো সোনার ব্রেসলেট,
অবলীলায় গাছের পাশে রেখেছিলে,
আর বলেছিলে মধুমন্তী কে
তোমার সাথে হয়ত দেখা হবে না আর কোনদিন
 
তুমিও  যেমন, মধুমন্তী মুখ ঘুরিয়ে বলেছিল,
এই জড়োয়া গয়নায় শুধু গাছের অধিকার
বাবা না বললে, আমিও কী জানি আর
 
আমি অদূরেই ছিলাম
বীরভূমের অশোকতরু গ্রামে
আরও কোন নিমগ্ন ধ্যানে
তোমায় ডেকেছিলাম আমিই,
তুমি তখন বোঝোনি,
আমি কিন্তু জানি,
রাত পেরোতেই আবার আসবে তুমি
ফিরে যাওয়ার বৃত্তে
 
সেবার হয়ত সেখানে দাঁড়াবার কথা ছিল না,
তাও তোমার  জেদ ,
মধুমন্তী সেবার ছিল না
জল আনতে এঁকেছিল গাছপুরাণ
 
যে গাছে শুধুই অজাগর
তুমি বলেছিলে কাঠগোলাপ
 
কোনও এক নতুন নামে ডাকার সেই পুরনো অভ্যাস
তুমি তখনও ছাড়োনি
কেই বা বলেছিল আমায়
পুরনো নামে ডাকতে,
তুমি যে নামেই ডাকো
আমি চিরসবুজ
পাতা সব ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও
আমি অজান্তে ভরে উঠি
বড় গাছ তোমার চিরকালই ভাল লাগে

আমি চির-রঙীন

Canto 1: Scene 2



No comments:

Post a Comment

১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...