Thursday, 17 September 2026

১৯. শান্তিনিকেতন

 

সত্যনারায়ণ ব্রতপালনের আয়োজন তোমার সম্পূর্ণ মৃদু সুরে মন্ত্রপাঠে তোমার অনীহা, সত্যের জয়গান এত অসম্পূর্ণ হয় না বারবার দেখে নিয়েছ, এ পূজোর রোশনাই ধীরস্থ, এ প্রার্থনায় নেই মিথ্যা প্রশস্তি প্রেমরূপে চেয়েছ যারে, তাকে ঘিরে সকল মিথ্যা যেন যায় হারিয়ে

মন স্থির করো, সম্যক আসি বধি নারায়ণে

সে আসবে, ছিন্ন করতে ভণ্ড অহংকার, সকল ঔদার্য্য ত্যাগ করি, ধরিবে রূপ বিরাট

তুমি অপেক্ষা করে আছো, শান্তিনিকেতনের বেডরুমে, একপাশে তোমার পূজোর ঘরে ধুপ জ্বলছে আলোয় সাজিয়েছ এ মায়াসংসার, ফিরে আর যাবে না সেই দুর্বিপাকে মন স্থির করেছ, অচঞ্চল প্রদীপশিখায় তোমার নিঃশ্বাস শান্ত, ঠোঁট কাঁপছে অস্ফুটে

 

অশোক পূর্ণিমায়, আর কৌষিকী অমাবস্যায়

বা তার পরের কোনও এক দ্বাদশীতে

দ্বাপর, ত্রেতা, পেরিয়ে যে সত্যযুগ

সে যুগান্ত, ললাট চন্দনে এঁকে নিয়েছ তুমি

তোমার ভ্রুমধ্যে, চাঁদের তেরোপার্বণ মিলায়

তোমার হাসিতে, নারায়ণী ব্রতপালন

 

তুমি একবার ফিরে এসো এই নদীতীরে

যেখানে নেই, সেই পুরনো মন্দির

শুধু দীর্ঘশ্বাস নাগকেশর আর অপরাজিতার ,

চেয়ে নিয়ো স্তব্ধতার বিবরণ

আলেখ্য তোমার তো সবই পরিচিত

আরও কতবার ফিরি আমরাই ,

এ পারাপার পেরিয়ে আরও কত আকাশগঙ্গা

পশলাভর পেলবতা তোমার শরীরে

পলিমাটির যে ধারাটি তোমার চিবুক

সুগ্রহী কাল তোমার পাণিপ্রার্থী ,

প্রতি রাতে আমরা

মনে করো, অধরা রক্তগোলাপ ,

ফুলশয্যা আমাদের এখনো সাজানো

শান্তিনিকেতনের সেই বাড়িতে

সরানো হয়নি রোশনাই

আমরা এখনও বিবাহিত

 

সাঁঝবাতিতে তুমি এঁকেছ আল্পনা

হীরের ফুল দিয়ে সাজিয়েছ ঘর

আলতা পায়ে পাশের শণিযোগে

শুদ্ধা তুমি নিরুদ্ধ আনাগোনা

 

রক্ত নীরব সূর্য্য তোমায় মিলায়

মৃত্যু শ্লোক, পঞ্চতন্ত্র বিলয়

এ মহাপ্রলয়

কালী, তুমি এসো আমার ঘরে

লক্ষ্মী, তুমি এসো আমার ঘরে

 

পৃথা, তুমি হারিয়ে যেও সমুদ্র

আমাদের গ্রীণহাউসে আমি অর্কিড

নিশি পদ্মে আঁকি তোমা

শণয়া তুমি এসো আমার ঘরে

সম্যক আসি বধি নারায়ণে

অস্তরাগে তোমার ছায়া সরে

সন্ধ্যা পরে এসো আমার ঘরে ।।

Canto 1: Scene 19




No comments:

Post a Comment

১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...