Saturday, 24 February 2024

১০. রূপালী

তোমার অন্তরীণতার নির্মোক আমায় বিরল করে । সাঙ্গীতিক রূপালীতে তুমি আমায় ডাকো , তোমার অলিখ নির্বাসনে মধুরিত যে হৃদয় , তাহার অবয়বে যেন এক প্রাচীন বৃক্ষ বনান্তরী হয় । আমি তোমার প্রাকারের সীমানায় ছবি আঁকি , তোমায় না পেয়ে হারিয়ে যাই আদিম অন্ধকারে, আস্বাদ করি আশীবিষচূর্ণ, চোখের তারায় ভেসে ওঠে জ্যোৎস্না ।

আমায় হত্যা করেছে তোমার বিরহ, আমি প্রাণভয়ে করিনি পলায়ন । অন্তরায় সুর বেঁধেছি অশনির, তার পরেও বারবার ফিরে আসি তোমার শেষ সাবধানবাণীতে । 

এসো না আমার ঘরে, এখানে রাখা আছে আজন্ম প্রতিশোধ । এ ঘরে রাত্রিবাস করে না কোনো সাধু । 

চলে যাও দূরে , আরো দূরে , যেখানে আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল ।

তোমায় সূর্য্যমুখীর আলোয় দেখেছি প্রতিনিয়ত । জানি তুমি থাকবে না কিছুতেই । তার পরেও, তোমার চলে যাওয়ার পথে আমি বিছিয়ে দিয়েছি মখ্‌মলের গালিচা । হয়ত বা অনর্থক, তাও তোমার পথ চেয়ে থাকি ।

সন্ধ্যাবেলায় রাগ বিহাগে লেখা কিছু শব্দ

আর কালো নদীর তীরে পুরনো শিবমন্দির

অস্পষ্ট স্মৃতিচিহ্ন, সেদিন সকালের মত ।

বাঁশীর সুর ভেসে আসে, এদিনের কাহিনী আপন মনেই ফুরোয়

শেষ নেই এই অবিরাম যাওয়া- আসার ,

মেঘ বৃষ্টির নামান্তর

আরো দূরে কোনও আন্তরিক মজলিস ।

এ বছর হয়ত আর যাওয়া হবে না বাউল মেলায়

তুমি আসোনি , তোমার চিঠি পাইনি এখনো ।

বৃক্ষ তাঁর নিজস্ব সুচিন্তনে

নদীর বুকে আলোছায়া

তুমি আর আমি

স্বর্ণযুগের প্রেমিক প্রেমিকা

আমাদের রাত শেষ হয়

নিঃসীম দিনযাপন ।

 

অন্য কথায় তুমি হঠাৎ যেন অচেনা

আনমনে ভাবছ আজ এত একা

আকাশগঙ্গায় তোমার রূপ রঙ আলো

তার ও দিনরাত অযথা ,

এ সময় জানে

তোমার গহীন অস্মিতা  ।

নির্জন তোমার নূপুরে রাতির সেঁজুতি

সেদিন তুমি অস্পষ্ট জলছবি

তোমায় দেখতে চেয়ে অকারণ পথচলা ।

 

তুমি তাও জেনেছিলে,

হিমশীতল রাতে

তুমি তাও জেনেছিলে

আমাকেই অজানা কোনও সুরে ।

Canto 1: Scene 10





Wednesday, 21 February 2024

৯. পদ্মপলাশ

রাতভর পদ্মপলাশ বুকে নিয়ে, তুমি শুধু বলেছিলে, আমায় যেতে দিও । আমি ঘুমিয়ে পড়ার আগে প্রতিদিন বলি, এ স্বপ্ন যেন রয়ে যায়, না যায় চলে ।তাও তুমি কিছুতেই মানবে না, আমায় বলবে তুমি একা থাকতে ভালোবাসো , একার একটা ঘর , যেখানে স্মৃতির পাহারা , আমি নেই , তুমি নেই , শুধু একটা নীল ডায়েরী , সেখানে তোমায় লেখা একটা কবিতা। 

সেখানে সাদা ফুলের কেয়ারীতে যেন  মৃত্যুর অনিবার্য্যতা ।

ভোরবেলা তুমি বারান্দায় এসে দাঁড়াও , তোমার সাথে শহর কথা বলে , গাছে ঘেরা একটা পথ তোমায় নিয়ে যায় রাতের থিয়েটারে , হলুদ ট্যাক্সির নস্টালজিয়ায় আমরা পাশাপাশি বসে থাকি , তুমি নিজের অজান্তেই আমার হাত জড়িয়ে ধরো , তোমার ফরাসী পারফিউম আমায় নৈশিক করে , তোমার অভিমান আমায় বিষণ্ণ করে ।

তোমায় কিছুতেই খুঁজতে নেই, নন্দন প্রাঙ্গনে, রাতের শহরে ।

এক রাত কষ্ট নিয়ে তুমি একদিন বললে

আমায় চেয়ে চেয়ে রাত জেগো না

অন্য কথা সব থাক , আজ আমরা  ফিরে যাই যে যার ঘরে  ।

আজ শনিবার, আজ তুমি চৈতি নদী ,

আগের রবিবার আমার কাছে চেয়েছিলে বিরহ

কালকে আবার ভুলে যাওয়ার দিন ।

 

তোমার চিঠি পেয়েছিলাম

তুমি লিখেছিলে স্নেহের সুচিত্রা

তোমার কথা প্রায়ই মনে পড়ে ।

তুমি যেন রাতভর ছবি আঁকলে

তারপর কোনও এক ভোরের অস্থিরতায়

যেতে দিলে আমায় নির্বাক রেখে

আমায় চেয়ে ফিরে যেয়ো না

কথা দিও আমায় ।

 

প্রয়োজন কী আমায় ভালবেসে

অহেতুক আমাতে শুধুই হাহাকার

নদী হয়ে আমি শুধু ভাঙি

এ সংসার, এ পরিমিতি ।

এ ঘর না হয় নাই বা হল আমার

প্রয়োজন কী আমায় ডাক দিয়ে

অহেতুক এক ভোরবেলার ছবি

আমায় চেয়ে ফিরে যেয়ো না

কথা দিও আমায়

সাগর চেয়ে আমি

তোমাকেই শুধু জানি । 

Canto 1: Scene 9

 










Monday, 19 February 2024

৮. ইচ্ছাপাথর

তোমার বিশ্বাস হয়না, এত সহজে সব ঠিক হতে পারে । এই তো ব্লু-প্রিন্ট, এভাবে, এভাবে, এভাবে, আর তারপর, এভাবে। তার পরেও মনে হয় অতীন্দ্রিয় কোনও শক্তি, সবার অলক্ষ্যে, নির্ধারণ করছে তোমার গতিবিধি । এ পৃথিবী তাকে চেনে না, চেনার প্রয়োজন ও নেই । না চিনল, তুমি তো জানো আমায়, আমি তো তোমার বিশ্বাস ভাঙিনি ।

তোমার বুকে ইচ্ছেপাথর, আমি তো দাগ কাটিনি । জানি, সেদিন আমাদের ফ্রেমে বাঁধানো ছবিটা ভেঙে দিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি বলো, আমরা কি সেই মুহূর্তে ভালবেসেছিলাম ? 

হয়ত ।

( তোমাকে লেখা একটি চিঠি )

ইরা, তুমি বলেছিলে একদিন আসবে

তুমি জানতে, কোথাও এক স্থির বিন্দুতে আছে নিহিত

আমাদের একান্ত পরিণয় , আমাদের বিভিন্নতার অস্তিত্ব

অলিখিত এক সম্বন্ধ , যা শুধু দূরে নিয়ে যায়

সেই বিন্দু থেকে এক মায়াবৃত্ত

আমরা পথ হারাই গোলকধাঁধায় ।

 

সে সব জেনেও তুমি বললে, আজ না, এখনো অনেক দেরী

তুমি কি সে রাতে জেনেছিলে, পথ হারিয়ে ফেলার আমৃত্যু খেলায়

শুধু ফিরে চাইতে নেই , শুধু অপেক্ষা করতে নেই?

আবার হয়ত বা আমাদেরই আন্তরিক জটিলতা

বিরহের সন্ধ্যায় আমাদেরি অশনিতা ,

যদি কোনোদিন সময় পাও, চিঠির উত্তর দিও

বোলো আমায়, ঘর ছেড়ে যাওয়ার সুবর্ণ ইচ্ছাপাথর

অযথা না ভালবেসেই বোলো

চোখের কাজল সাজিয়েই বোলো

দূর থেকে দেখা কিছু অদর্শন

তার ও কী থাকে  হারিয়ে যাওয়ার অধিকার

এই তর্কের মীমাংসা চলো আজকেই করি

আজ সকালেই লিখে ফেলি বিয়ের চুক্তিপত্র ।

 

তার পরেও তুমি বলবে

কী মানে আছে এক সাথে পথ চলার

না হয় আরও একবার হারিয়ে গিয়ে দেখি

তোমায় খুঁজে পাই যদি এ মায়াবী সংসারে

এর পরেও তোমার অনেক কথা বাকী

আমায় বলতে চেয়ে

কেন তুমি বারবার ফিরে আসো

বিকেলের একান্ত  সীমানায়

যেখানে  একলাটি সেই বাড়ি

একটা ডায়েরী

আর তোমায় লেখা একটি চিঠি ।

 

হয়ত এগ্রীমেন্টে লেখা নেই

আমায় নীল বলে ডেকো

সাড়া দিও আমার দুঃস্বপ্নের আয়নায়

কোথাও কী লিখে রেখেছো

অভিশপ্ত এক প্রতিশোধ ।

বলতে গিয়ে যদি কথা হারাও , 

তা সত্ত্বেও আমি জানি

তুমি আমাকেই ভালোবাসো ।

Canto 1: Scene 8



Saturday, 17 February 2024

৭. মধুশালা

যে পথে গেলে আমায় পাবে, সে পথ তোমার সবসময় অচেনা মনে হয় ।  গ্যাসলাইটের ঘোলাটে আলোয় খিদিরপুরে তুমি আমায় দেখেছিলে, অনামী কোনো মধুশালায় । তুমি নিয়ন আলোয় সেজে উঠেছো, রাতের পোষাকে । তোমায় দেখে আমি চোখ ফেরাতে চেয়েও, দৃষ্টি ফেরাতে পারিনি । আকন্ঠ তোমার বিষ আমায় পরিপূর্ণ করেছে । যেমন নৌকার গায়ে নদীর ছল্‌ছল্‌, তেমন তুমি নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলে আমায় । ডুবে গেলে যাবে, এখন আমায় ভুলে থাকো ।

আমায় জড়িয়েছিলে ওড়নায়, অজানা কোনও নামে ডেকেছিলে আমায় । আমি সাড়া দিতে চেয়েও পারিনি ।  সে সময় যখন অতিক্রান্ত, তুমি হাত বাড়িয়েছ । তোমার শরীরে ভুলিনি সেদিন, শুধু মদের দাম চুকিয়ে চলে এসেছি, যাতে কেউ চিনতে না পারে ।

তার পরে তোমায় যেদিন দেখি, তুমি কোথাও যাচ্ছ । আমায় দেখে না চেনার অভিনয় করলে, যদিও আমি ঠিকই জেনেছি তোমায় ।

 

পার্থিব তন্দ্রিম বর্ণিমা, কুয়াশা অস্থির রতি, তামসিতা তোমার রাগিনী

অমার্জিত সম, ত্বমঃ, তুহ অতি শৈব্যা যেবতি, অপারগ

অর্থানর্থ ভাববার সময়, চেয়ে নিয়ো আমার অনন্ত শোণিত ।

অর্চনা দিও, আর অঙ্গীকার, বৃথা পাপ সংসর্গ ।

চন্দ্রচূড়া মানসী, অক্ষিপাতে চেও শাপিত ত্বরায় ।

সাঁঝ এলো বলে, সাধভক্ষণের সময় ঘনায় ।

 

সঞ্চার সন্ধান রহিত যে জন্মকথা, তা একান্তই তোমার আমার ।  আমরা কোনদিনই ঠিক বুঝে উঠতে পারি না, এই উৎসবের ভিড়ে, আমাদের আলাপচারিতায়, ঈশান কোনে মেঘ জমে । সে অস্তরাগ বুকে নিয়ে, সুচিত্রা তুমি মোহিত করেছ আমায়, জলপথে সন্তরিতা হরিণীর ন্যয় । পেয়েছি আমি তোমায় অস্ফুট মূর্চ্ছনায়, ইতস্তত মৃতদেহের ভিড়ে, যেখানে শুধু তুমিই পূজিতা, মৃত্তিকা রূপে । কোনও এক রাতে, শ্মশানে, মৃত্যুপুরীতে, আমি অপেক্ষা করেছি তোমার প্রার্থনায় । তার আগে আকন্ঠ গ্রহণ করেছি রুধির । সে সুরা পানে, মোহমুগ্ধ আমি, চেয়েছি তোমায়, রজনীগন্ধায়, আর সন্ধ্যাপ্রদীপে ।

 

সুচিত্রা, তুমি আমায় জানাতে পারতে

তুমি অভিনয় একটুও পারো না ।

যা কিছু বলেছ, তা মিথ্যা নয়

যা কিছু বলোনি, তা সত্যি নয় ।

 

আমি জেনেছি তোমায়, শেষ প্রদীপের আলোয়

আমি জেনেছি জন্মদিনে, একান্ত আপনে

তোমার অন্তহীন মৃত্যুতে, আমার নৈশ বাসরে ।

Canto 1: Scene 7 





১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...