বিনা কারণে যখন কোনো কিছুই হয়না, তখন হেতু অবান্তর । প্রথাবিহীন এক সৎসঙ্গ পরিচালনায়, আমি রচনা করেছি এক অজানা বাস্তব । সে জীবন জানে না অহেতুক সম্পর্ক, তার নেই কোনো অর্থদায় । তা সত্ত্বেও সে আটকায় রিহ্যাবে, দরজায় করে করাঘাত। ত্যাগ করি সকল অবিদ্যা, বা অজ্ঞতার অভিনয়, সে জানে, এ জীবন পেরিয়ে, সে পাবে বেঁচে থাকার অধিকার । তার অঙ্ক সে নিজেই করে, শিরার মধ্যে ভয়ের ইজ্ঞেকশন । এ নেশা তার কঠিন অভ্যাস, সে পেয়েছে মৃত্যুর সন্ধান ।
সে
আভাস তাকে ডাকে, দুর্নিবার এক মোহ উত্তেজনায় । যৌনতার
আরক তার মজ্জাবিস্তারে, সে জানে বিছানার গহীন প্রার্থনা
।
ভালবাসা তার কাছে দোটানারই নামান্তর,
তার পরেও সে একবগ্গা হরিণ । সে ধায় প্রেমে, সে পেয়েছে নারীর অন্তরের অনন্ত
অমৃত ।
অষ্টাদশ অক্ষৌহিনী নারায়নী সেনার লোভ সে করেছিল ত্যাগ
।
একাই করবে বিশ্বশাসন, এমনই তার
একান্ত অভিপ্রায় ।
যক্ষ্মপুরী তাঁরই মোহকল্পনা,
মৃত্যুদায় সে রাখেনি অহেতুক । মরে
গেলে যাব,
এ জীবনে কীই বা রাখা থাকে, প্রেম বিনা । অসীম
বোধ তার সুপ্ত চেতনায়, সে চলে যাবে, এ সুখের সংসার ছেড়ে, কোনও অজানা শহুরে অরণ্যে । সে
সম্পত্তির আইনে লেখা আছে তারই নাম, আয়াসে সে
পরিত্যাগ করে সম্পর্কের
বাঁধন ।
অনাদিকালের
রূদ্ধসঙ্গীত তোমার যক্ষ্মীবিভঙ্গে
তুমি
সম্যক চেয়েছিলে মদিরা, নিশিরাতে, বিপদের সম্মোহনে
নীলসর্প
বিস্তারে তোমায় সাবধান করিয়াছে কালাশৌচ
সাধনভঙ্গিমায়
সে সকল অনায়াসে করেছ অস্বীকার
প্রিয়তমা,
হৃদয় জানিও, লোভ নয় ।
জানিও
প্রেমে,
কহিও আমারে, তোমা বিনা এ সংসার অনর্থ
যাইতে
দিও না আমারে, চারিদিকে মিথ্যা অহংকার
ফাঁদ
পাতে যাদব জাতি, এ বংশ মহাভারতের আখ্যান ।
কখন
আসিবে জরা, কহিবে কৃষ্ণে,
সময়
হইয়াছে,
আপনি শরবিদ্ধ
সে
মৃত্যু আনিতে কি চাও, ত্বরায় ?
গমন
করিবে,
অনন্ত গহনে, এ ঈপ্সা কী অসঙ্গত
জানিয়াছ
কী,
প্রথা বর্হিভূত, এ তন্ত্রসাধনায়,
ঘোর অনিশ্চয়
তবে
কহ,
কী ক্ষোভ রাখি, এ অহেতুক বারতা
কী
রঙ্গে চাহ, নেশাবিস্তারে, জাগে কঠিন শমন ?
তোমারে
জানি,
তুমি অস্থির ভারী, ভয় পাও নাই রাত্রিতে
সে
অহং তোমারি ঐশ্বর্য্য, পরিও অলংকার
ধারণ
করিও,
হীরা মরকত, যাচিও না গজদন্ত
এ
কঠিন মৃতকাল
এ
কালে রচেনা নীতিবাসর ।
অনীতা
তুমি,
আমায় কহিও, আরও একবার
প্রেম
করি তব,
লোভ নাহি, ভয় নাহি মোর মনে
সে
আমি জ্ঞাত, জানি তোমারে, তুমি আমাতে প্রীত ।
এ
মৃত্যু,
অতি নিত্য জানি, তা’ও চাহি আমি
অমোঘ
সত্যের এই মহামন্ত্র আমি নিয়ত মানি
আমাতেই
ভবসংসার,
নয় দরোজা, নয় কুঠি
ষড়্রিপু আমাতেই বাস্, আমিই মহাপাচক
মহাপাতক
এই ধর্মপুরে আমিই অধিবাস
আমারই
হয় অন্ত্যেষ্টি, আমিই সকল নাশ
আমারেই
জানিয়া যক্ষ্মী মহামন্ত্র জপে
যক্ষ্মীর
লাগি আমিই সকল প্রেতযোনি মতে ।
সুচিত্রা,
পৃথা, ইরা, বা অবন্তিকা,
যে
নামেই তোমায় ডাকি না কেন
তুমি
সাড়া দাও
‘আমি” বলে ।
Canto 1: Scene 14



.jpg)

