Friday, 8 March 2024

১৪. যক্ষ্মীবিভঙ্গ

 বিনা কারণে যখন কোনো কিছুই হয়না, তখন হেতু অবান্তর প্রথাবিহীন এক সৎসঙ্গ পরিচালনায়, আমি রচনা করেছি এক অজানা বাস্তব সে জীবন জানে না অহেতুক সম্পর্ক, তার নেই কোনো অর্থদায় তা সত্ত্বেও সে আটকায় রিহ্যাবে, দরজায় করে করাঘাত ত্যাগ করি সকল অবিদ্যা, বা অজ্ঞতার অভিনয়, সে জানে, এ জীবন পেরিয়ে, সে পাবে বেঁচে থাকার অধিকার তার অঙ্ক সে নিজেই করে, শিরার মধ্যে ভয়ের ইজ্ঞেকশন   এ নেশা তার কঠিন অভ্যাস, সে পেয়েছে মৃত্যুর সন্ধান

সে আভাস তাকে ডাকে, দুর্নিবার এক মোহ উত্তেজনায় যৌনতার আরক তার মজ্জাবিস্তারে, সে জানে বিছানার গহীন প্রার্থনা ভালবাসা তার কাছে দোটানারই নামান্তর, তার পরেও সে একবগ্গা হরিণ   সে ধায় প্রেমে, সে পেয়েছে নারীর অন্তরের অনন্ত অমৃত

অষ্টাদশ  অক্ষৌহিনী  নারায়নী সেনার লোভ সে করেছিল ত্যাগ একাই করবে বিশ্বশাসন, এমনই তার একান্ত অভিপ্রায় যক্ষ্মপুরী তাঁরই মোহকল্পনা, মৃত্যুদায় সে রাখেনি অহেতুক মরে গেলে যাব, এ জীবনে কীই বা রাখা থাকে, প্রেম বিনা অসীম বোধ তার সুপ্ত চেতনায়, সে চলে যাবে, এ সুখের সংসার ছেড়ে, কোনও অজানা শহুরে অরণ্যে সে সম্পত্তির আইনে লেখা আছে তারই নাম, আয়াসে সে পরিত্যাগ  করে সম্পর্কের বাঁধন  

 

অনাদিকালের রূদ্ধসঙ্গীত তোমার যক্ষ্মীবিভঙ্গে

তুমি সম্যক চেয়েছিলে মদিরা, নিশিরাতে, বিপদের সম্মোহনে

নীলসর্প বিস্তারে তোমায় সাবধান করিয়াছে কালাশৌচ

সাধনভঙ্গিমায় সে সকল অনায়াসে করেছ অস্বীকার

প্রিয়তমা, হৃদয় জানিও, লোভ নয়

জানিও প্রেমে, কহিও আমারে, তোমা বিনা এ সংসার অনর্থ

যাইতে দিও না আমারে, চারিদিকে মিথ্যা অহংকার

ফাঁদ পাতে যাদব জাতি, এ বংশ মহাভারতের আখ্যান

কখন আসিবে জরা, কহিবে কৃষ্ণে,

সময় হইয়াছে, আপনি শরবিদ্ধ

সে মৃত্যু আনিতে কি চাও, ত্বরায় ?

 

গমন করিবে, অনন্ত গহনে, এ ঈপ্সা কী অসঙ্গত

জানিয়াছ কী, প্রথা বর্হিভূত, এ তন্ত্রসাধনায়, ঘোর অনিশ্চয়

তবে কহ, কী ক্ষোভ রাখি, এ অহেতুক বারতা

কী রঙ্গে চাহ, নেশাবিস্তারে, জাগে কঠিন শমন ?



 






তোমারে জানি, তুমি অস্থির ভারী, ভয় পাও নাই রাত্রিতে

সে অহং তোমারি ঐশ্বর্য্য, পরিও অলংকার

ধারণ করিও, হীরা মরকত, যাচিও না গজদন্ত

এ কঠিন মৃতকাল

এ কালে রচেনা নীতিবাসর

অনীতা তুমি, আমায় কহিও, আরও একবার

প্রেম করি তব, লোভ নাহি, ভয় নাহি মোর মনে

সে আমি জ্ঞাত, জানি তোমারে, তুমি আমাতে প্রীত

 

এ মৃত্যু, অতি নিত্য জানি, তাও চাহি আমি

অমোঘ সত্যের এই মহামন্ত্র আমি নিয়ত মানি

আমাতেই ভবসংসার, নয় দরোজা, নয় কুঠি

ষড়্রিপু আমাতেই বাস্, আমিই মহাপাচক

মহাপাতক এই ধর্মপুরে আমিই অধিবাস

আমারই হয় অন্ত্যেষ্টি, আমিই সকল নাশ

আমারেই জানিয়া যক্ষ্মী মহামন্ত্র জপে

যক্ষ্মীর লাগি আমিই সকল প্রেতযোনি মতে

 

সুচিত্রা, পৃথা, ইরা, বা অবন্তিকা,

যে নামেই তোমায় ডাকি না কেন

তুমি সাড়া দাওআমিবলে

Canto 1: Scene 14

Monday, 4 March 2024

১৩. বিসমিল্লার সুর

 

একথা সেকথার পর, তোমার অল্প নেশা হয় সেদিন, ইরা

 অনন্ত আবেশ ছিল তোমার চোখে, স্বৈরতন্ত্রী জেদ

কিছুতেই পা টলবে না, যতই বলুক অন্যকথা শরীর

রাতের পার্টি বড় বহিরঙ্গ, না হয়  নাই বা গেলে

যদিও সেখানেই দেখা হয়েছিল, বিসমিল্লার সুরে








চিনতে পারোনি অবশ্যই, ভেবেছিলে সুইসাইড প্যাক্ট

আমারও না চেনার কথা, তাও হাত না ধরে পারিনি

গাড়ি যখন পার্ক স্ট্রীট, তুমি জড়ানো গলায় জন্মান্তর

আরো কিছু দূরে আমার বাড়ি, তোমার তাড়াতাড়ি

হয়ত বা ভালবাসা, বা আমারই নামান্তর



 








তোমায় নিশ্চিন্ত দেখে আমি বলেছি অনর্থক কাহিনী

যদিও তোমার শোনার অভিনয়ে, তখন রাত হয়ে গেছে

বাড়ি ফিরে তুমি আর বসতে চাওনি

আমায় বললে, একটু ধরো, আমি চেঞ্জ করে আসি

আমার অল্প অস্বস্তি, আমি নেশা করিনি

কথা দিয়েছি, তোমায় বিছানায় শুইয়ে, আমি চলে আসি

তুমি শুনবে না, শুধু বলছো আমায় ধরো

আমি জানি তুমি সুরক্ষিতা

তোমার রাত হয়েছে

আমার ফেরার পথ নেই

Canto 1: scene 13

১২. পরের বার পূজোয়

 

অতি সহজে তুমি এড়িয়ে যাও অবিশ্বাসের সূচীপত্র

তোমার হাতের আড়ালে, নিশ্চিন্তে লুকিয়ে রাখো রক্তচন্দন বৃত্ত

কোন রঙটা মানাবে তোমায়, যে কোনো মূহুর্ত্তে,

তুমিই সব থেকে বেশী ভালো চেনো



 

পথ চলতে চলতে, ভাসিয়ে দাও অহেতুক নিমন্ত্রন

পর মূহুর্ত্তেই মনে পড়ে, এ কথা হয়ত বলতে চাওনি

নিঊ মার্কেটে আসনপিড়িঁ, তুমি অশরীরি

নীল পাড়, না গোলাপী, হয়ত বা লাল বা কালো

তুমিই ভালো জানো


 

তাও হঠাৎ আগমনী সুরে, সুচিত্রা, আমায় বলো, পরের বার পূজোয়

হয়ত ফিল্ম ফেস্টিভাল, বা বইমেলা, এখন সময় নেই,

দেখা করার আছে, র সাথে, জানো তুমি

সে যে আমিই, আমার অনেক নাম

সব কাহিনীর শেষে, আমাকেই কষ্ট পাও তুমি

কষ্ট পাও তুমি

Canto 1: Scene 12

Tuesday, 27 February 2024

১১. নাগ শহর

 ভাবিনি, এ জীবনে নিজেকে জানতে গিয়ে সম্মুখীন হতে হবে আঁধারের এ অন্ধকার সম্পৃক্ত করেছে আমায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে   এখান থেকেই জীবনসংগ্রাম, মাটি আঁকড়ে ফিরে দাঁড়াবার লড়াই এ যুদ্ধ আমি জিতবই, সে আত্মবিশ্বাস আমার আছে, জয় করে আমারি মোহান্ধকার ভয় গ্রাস করেছে আমায়, তারপরে আমিই হয়েছি ভয়াল কাল গ্রাস করেছে আমায়, আমিই হয়েছি দ্রোহকাল

জেনো আমায়, আমার শোকসন্তপে, অশৌচ তন্ত্রে আমাকেই দিও অভিশাপ সে পাথেয় আমার, এ পথেই  গঙ্গাবতরণ, এ শহর আমার তীর্থভূমি, এ নগর আমার আশীর্ব্বাদ, আমি সন্ন্যাসী পরিব্রাজক

শায়িল নয়ান, নিমীলিত অঁখি, সহজ সঙ্গমে

ধীর পায়ে তুমি, শয়ন মন্দিরে, আসিলে গহীন অঙ্গনে

অতি ধীরে তুমি, কহিলে আমায়, রাখিও চিত্তাকাশে ।


আমি কহি সখী

আঁখিপল্লব তোর

সে অতি ঘোর

মরণ দশায়, শানিয়া রুধির, সাঁঝ সকাশে

আদিত্য মোহ, যায় ডুবে ডুবে

অতল তোমার, গভর আলিঙ্গনে

 

তুমি কহ মোরে,

তরণী শায়িত, ভাসিয়া যাইও, অন্ত রঙ্গমে

বসন্ত অঘোর, রঙীন সজোর

সুতীব্র নাভি, অথই নীভি, এ বন্ধনে

আসিও রাতে, কেহ কোথা নাই, এ আকাশ ভারী

সতী সাধ্বী আমি, শুধু তোমাকেই চাই,

এ আশা করি

 

আমি কহি সখী, এ অধর তোর,

কাটিয়া হৃদয়, রেখাপাত করি

এ আকাশ ভারী

 

কিভাবে আসিব, আমি যে মৃত

গত কাল রাতে, স্বর্ণ প্রহরে

কিভাবে রাখিব, আমি যে কৃত

গত কাল রাতে, কাষ্ঠ গহ্বরে

তুমি কহ সখা, এ মৃত্যু পুরী

এ স্থানে মোরা, বহুদিন রই

রইয়া রইয়া, সইয়া সইয়া, মৃত্যুরই গীত গাই

প্রতীক্ষা প্রহর, এ নাগ শহর, এ শহরে তুমি

আসিছ আমায়, আমি যে তোমায়, হৃদয় মন্দিরে

 এ অমৃতধাম, ইহা পরে শুধু ,আমরা সবাই

হেথায় হোথায়, আকাশেরও বুকে, অস্থির রাতে, একাকী এড়াই

আঁকিয়া আঁখি, প্রিয়তম তুমি, আসিও আমার, অশ্রু সন্তপে

আঁখি নদী এই, চিরকাল তব,

তোমা হেথা যাই

অন্ত অঙ্কনে

Canto 1: Scene 11

Saturday, 24 February 2024

১০. অন্যকথা

 এ যাবৎ ভেবে দেখিনি, যে কাজ, তার কর্মফল কোথায় নিয়ে যেতে পারে আমায় সাফল্যের সুউচ্চ প্রাসাদ আমার অধিকার, তার পরেও কোথাও বাকী রয়ে যায় কাঞ্চনসুবর্ণ তার থেকে চলো, চলে যাই কোনো বনান্তরে, যেখানে এখনো হিংস্র প্রবৃত্তির সহাবস্থান খুঁজে দেখি আশীবিষচূর্ণ, চোখের তারায় ভেসে উঠুক জ্যোৎস্না

 আমায় হত্যা  করেছে বিরহ, আমি প্রাণভয়ে করিনি পলায়ন অন্তরায় সুর বেঁধেছি অক্ষসাম্রাজ্যের, তার পরেও বারবার ফিরে আসি তোমার শেষ সাবধানবাণীতে এসো না আমার ঘরে, এখানে রাখা আছে আজন্ম অপমান এ ঘরে রাত্রিবাস করে না কোনো সাধু

 তোমায় সূর্য্যমুখীর আলোয় দেখেছি প্রতিনিয়ত জানি তুমি থাকবে না কিছুতেই তার পরেও, তোমার চলে যাওয়ার পথে আমি বিছিয়ে দিয়েছি মখ্মলের গালিচা হয়ত বা অনর্থক, তাও ইচ্ছাসম্মত


সন্ধ্যাবেলায় শুধু আশঙ্কা আগে ডাকে

বিহাগ রাগ দিয়ে লেখা কিছু শব্দ

আর সরযূ নদীর তীরে পুরনো শিবমন্দির

অস্পষ্ট স্মৃতিচিহ্ন, সেদিন সকালের মত

 

আজান ভেসে আসে, এদিনের কাহিনী আপন মনেই ফুরোয়

শেষ নেই এই অবিরাম যাওয়া- আসার

মেঘ বৃষ্টির নামান্তর

আরো দূরে কোনও মজলিস


এ বছর হয়ত আর যাওয়া হবে না বাউল মেলায়

সামনের বছআগেই চলে গেছে

বৃক্ষ তাঁর নিজস্ব সুচিন্তনে

নদীর বুকে আলোছায়া

তুমি আর আমি

স্বর্ণযুগের প্রেমিক প্রেমিকা

আমাদের রাত শেষ হয়

নিঃসীম দিনযাপন ।

 

অন্যকথা

আজ এত একা লাগে

আকাশগঙ্গাও মনে হয় নিজেকে অচেনা

রূপ রঙ আলো

তার ও দিনরাত অযথা

এ সময় জানে

তোমার গহীন অস্মিতা 



 








নির্জনে অবকাশে নুপূর পরা পায়ে

আমাদের বাড়িতে রাতির মনে পড়া

সেঁজুতি চয়নে স্নিগ্ধ আবেশ

সেদিন তুমি অস্পষ্ট আনমনে

তোমায় দেখতে চেয়ে অযান্ত্রিক পথচলা

 

তুমি তাও জেনেছিলে,

আমি কখনোই চাই নি যে তুমি

এভাবে নিজেকে অজানায় হারাও

হিমশীতল রাতে

তুমি তাও জেনেছিলে

আমাকেই অজানা কোনও সুরে

Canto 1: Scene 10

১. পুর্বকথা

  এ কাহিনী হঠাৎই সৃষ্টি , এ জন্মে বিশেষ পূর্বপরিকল্পনা করিনি । সহসাই প্রবাহিত হয়েছে মৃত্যু নদী , হরিদোয়ারে গঙ্গায় শিকল ছিড়ে গেছে ।   ভাসিয়ে...